আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে ফের মৃত্যু। এবারে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক মহিলা। মালদহের পুরাতন মালদা থানার কামঞ্চ এলাকার ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম বানোতী রাজবংশী। বয়স ৩৬ বছর। তাঁর স্বামী সোমেজ রাজবংশী পেশায় একজন চাষী। 

অভিযোগ, বানোতী রাজবংশী পেটে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনায় বাবা গোপাল রাজবংশী মারা যান। তিন বছরের মাথায় মায়েরও মৃত্যু হয়। দাদুর বাড়িতে মানুষ হন বানোতী। এদিকে বাবা-মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ায় তাঁদের আধার কার্ড ভোটার কার্ড, বাবা মার জন্ম এবং মৃত্যু সার্টিফিকেট কিছুই ছিল না বানোতী রাজবংশীর কাছে। এমনকী ছিলনা তাঁর জন্ম সার্টিফিকেটও। তাই এসআইআর এর ফর্ম ফিলাপের ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথির দরকার ছিল তার মধ্যে অধিকাংশই জমা করতে পারেনি ওই মহিলা। 

আর সেই আতঙ্কেই গত মঙ্গলবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বানোতী রাজবংশী। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে এসআইআর এর আতঙ্কে বিষ খেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও এই মর্মে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ঘটনার জেরে মালদা যুব তৃণমূল প্রেসিডেন্ট প্রসেনজিৎ দাস বলেন, " বানতী রাজবংশী আমাদের ওল্ড মালদা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বয়স ৩৫ বছর। তিনি একজন গৃহবধূ। তাঁর বাবা-মা খুব ছোটবেলায় মারা যান। সম্প্রতি তাঁর শুনানির নোটিশ আসে৷ কাগজ জমা দিতে না পারায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন৷ আমার প্রশ্ন ইলেকশন কমিশনের কাছে এসআরআইয়ের নামে আর কত প্রাণ বিজেপি নেবে?" 

প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।