আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর-এর আতঙ্কে ফের মৃত্যু বাংলায়। আবারও দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এক বৃদ্ধা। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। এসআইআর-এর শুনানিতে গিয়ে নথি দেখাতে পারেননি। এর জেরেই ভয়ে, আতঙ্কে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে তাঁর। 

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের ভড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লেদারঘাট গ্রামে। ৬৫ বছরের মৃত বৃদ্ধার নাম,রহিমা বিবি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে গ্রামেই বসবাস করা নিজের মেয়ে ও জামাইয়ের কাছে থাকতেন তিনি। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই আছে। 

মৃত বৃদ্ধার পরিবার আরও জানিয়েছে, এসআইআর-এর গণনা ফর্মে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য দিতে না পারায় এসআইআর এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। ২০০২ সালের নথি বা তথ্য না থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই উদ্বেগে দিন কাটছিল বৃদ্ধার। শুনানিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেননি। যার জেরে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। 

অবশেষে শুনানির পরদিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধার। পরিবারের দাবি, এসআইআর-এর শুনানির আতঙ্কেই ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।