আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব। এই পর্বেও আতঙ্কে, ভয়ে মৃত্যুমিছিল জারি বাংলায়। এবার মালদহে শুনানির আতঙ্কে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। 

ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের মানিকচকে। জানা গেছে, মৃত ৫৫ বছরের প্রৌঢ়ের নাম, শেখ সরিফুল। মানিকচক ব্লকের নুরপুর অঞ্চলের নিচুর তিওড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সরিফুলের নাম ছিল। তাঁর নামে শুনানির নোটিশ আসেনি। তাঁর দুই ছেলেকে শুনানিতে তলব করা হয়েছিল। 

পরিবারের তরফে আরও জানিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে দুই ছেলে শুনানিতে হাজিরার নোটিশ পেয়েছিলেন। নামের গরমিল ছিল তাঁদের। তখন থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সরিফুল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে ভুগছিলেন। ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই প্রৌঢ়। 

আজ মঙ্গলবার সকালে দুই ছেলের শুনানিতে হাজিরার কথা ছিল। এদিন সকালে ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সরিফুল। বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শুনানির আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। 

প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন। 

বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন। 

এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।