আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা, তাঁর শ্বশুর শরিফুল ইসলাম এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয়ের সম্পত্তি 'ফ্রিজ' শুরু পুলিশের।
জানা গিয়েছে, মাদক বিক্রির টাকায় বেআইনিভাবে সম্পত্তি বাড়ানোর অভিযোগে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার লালগোলা থানার আধিকারিকরা সোমবার দুপুরের পর থেকে শরিফুল, হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানা এবং তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, গাড়ি বাজেয়াপ্ত এবং 'ফ্রিজ' করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
জেলা পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার হুমায়ুনের মেয়ে নাজমা সুলতানার শ্বশুরের তিনটি সম্পত্তি পুলিশের তরফ থেকে 'ফ্রিজ' করা হয়েছে। মঙ্গলবার আরও ছ'টি সম্পত্তি পুলিশের তরফ থেকে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কন্যা নাজমা সুলতানার সঙ্গে লালগোলা থানার নলডহরি গ্রামের বাসিন্দা শরিফুলের পুত্র পেশায় ব্যবসায়ী রাইহান আলির বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়েছে।
নাজমার শ্বশুরমশাই শরিফুল ইসলাম মাদক বিক্রির টাকায় বেআইনিভাবে লালগোলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি করেছে বলে পুলিশের তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে। মাদক পাচার বিরোধী আইনের কয়েকটি ধারা মেনে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশের ভিত্তিতে সোমবার থেকে পুলিশ শরিফুল , হুমায়ুন কন্যা নাজমা এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, "সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের কারবার একটি অভিশাপ। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ পুলিশ 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে চলছে।"

তিনি বলেন,"লালগোলা থানায় যে নির্দিষ্ট মামলায় পুলিশ তদন্ত করে স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তা শুধু তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর অর্থনৈতিক তদন্তও করা হবে। এই মামলায় মোট ১৪ টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আমরা পেয়েছি। "
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে এই ঘটনায় ১৫ টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট 'ফ্রিজ' এবং দু'টি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মাদক বিক্রির টাকায় সম্পত্তি কেনা ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
মঙ্গলবার অন্য কিছু সম্পত্তির সঙ্গে লালগোলা থানার পুলিশ হুমায়ুন কন্যা নাজমা সুলতানার নামে থাকা একটি চা-বিস্কুটের দোকান 'ফ্রিজ' করে তার সামনে বোর্ড লাগিয়ে দেয়। সূত্রের খবর দোকানটি নাজমা ভাড়ায় এক ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন।
জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন,"হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লালগোলার বিভিন্ন এলাকায় এবং বাংলাদেশে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এক সময় লালগোলায় শরিফুলের নেতৃত্বে বড়সড়ো একটি 'ড্রাগের সিন্ডিকেট' চলত। মাদক বিক্রির টাকায় শরিফুল নামে এবং বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি করেছে বলে পুলিশের দাবি।
লালগোলা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে , মাদক পাচারের অভিযোগে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে দু'বার গ্রেপ্তার হয়েছিল হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর , শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীকালে তিনি কোর্ট থেকে সেই মামলায় জামিন পান।
পুলিশের অভিযোগ,মাদক বিক্রির টাকায় শরিফুল ইসলাম নিজে এবং তার কয়েকজন নিকট আত্মীয়র নামে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি করেছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শরিফুল ইসলাম তার রক্তের সম্পর্কের মোট সাতজন আত্মীয়ের নামে বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি করেছে। মঙ্গলবার পুলিশের তরফ থেকে শরিফুলের একটি বাড়ি এবং ইটভাটা-সহ আরও কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
হুমায়ুন কন্যা বলেন ,"রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এই সব করা হচ্ছে। বাবার সঙ্গে পেরে না উঠে এখন আমাকে এবং আমার শ্বশুরবাড়িকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। আমার বাবা নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির পর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।"
তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন বলেন,"সীমান্তবর্তী এলাকায় কি শুধু শরিফুলের সম্পত্তি আছে? লালগোলার তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তি নেই ? ইডি কেন দেখতে পাচ্ছে না গত কয়েকবছরে তৃণমূল বিধায়ক কত সম্পত্তি করেছেন।"
