আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেবন অভিষেক, জল্পনা ছিল তেমনটাই। তবে, সোমবারের পর, মঙ্গলবার সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। নিজের বক্তব্যে, একেবারে ক্ষুরধার পয়েন্ট তুলে ধরে, তিনি বোঝালেন দুই ভারত তত্বকে।
বাজেট ভাষণের জবাবী ভাষণ দিতে গিয়ে অভিষেক তুলে ধরেন কমেডিয়ান বীর দাসের প্রসঙ্গ। অভিষেক বলেন, 'নভেম্বর, ২০২১-এ কেনেডি সেন্টারে, ভারতের তরুণ কমেডিয়ান বীর দাস দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। তাতে বহু মানুষ হেসেছিল কেউ কেউ অপমানিতবোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি শুধু হাস্যরস সৃষ্টি করেননি। তিনি আদতে আয়না দেখিয়েছেন।' তারপরেই অভিষেক বলেন, 'আমিও সেই দুই ভারতের প্রতিনিধি।'
তারপরেই অভিষেক বলেন, 'আমি সেই ভারত থেকে এসেছি, যে ভারত বলে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত।। আবার আমি এমন ভারতে থাকি, যেখানে মাতৃভাষা সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে বাংলায় কথা বলার অর্থ বাংলাদেশি। মাছ খাওয়ার অর্থ মোঘল।' অভিষেক কথার রেশ ধরেই বলেন, 'আমি এমন এক দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, যেখানে জয় বাংলা বললে কিংবা আমার সোনার বাংলা গাইলে, তাঁকে অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।'
এটুকুই নয়। এই দুই ভারত তত্ব বোঝাতে গিয়ে, অভিষেক তুলে ধরলেন বাংলা বঞ্চনার কথাও। এর আগেও রাজ্যের শাসক দল, বারেবারে বাংলা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে। এদিন সংসদে অভিষেক বলেন, 'আমি এমন এক দেশ থেকে এসেছি, যেখানে বলা হয় সবকা সাথ সবকা বিকাশ।' তারপরেই রাজ্যেকে বঞ্চনার কথা অভিষেকের গলায়। বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স দেওয়ার পরেই, বাংলার সাধারণ মানুষ কেন্দ্রের থেকে বারেবারে সাহায্যের বদলে বঞ্চনা পেয়ে এসেছে।
অভিষেক সুর চড়িয়ে বলেন, 'আমরা একদিকে নিজেদের বিশ্বগুরু বলে দাবি করি। অন্যদিকে বাংলার ১০ কোটি মানুষকে নিজেদের প্রাপ্য করের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আজও বাংলার ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি আটকে আছে। এটা শুধু টাকা নয়, এটা সম্মানের প্রশ্ন।'
অনুপ্রবেশ নিয়েও এদিন কেন্দ্রের দিকে কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, 'সর্বোচ্চ মন্ত্রক থেকে বলা হয়, আমাদের সীমানা নিরাপদ। অথচ দিল্লির বুকে, পহেলগাওয়ের বুকে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকলেন কী করে?'
দশকের পর দশক ভোটার তালিকায় থাকাটাও অস্তিত্বের প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। দেশের সেবা করলেও আপনার ভোটাধিকার নিশ্চিত নয়? এদিন এসআইআর ইস্যু নিয়েই, নাম না করেও প্রশ্ন ছুড়ে সুর চড়িয়েছেন অভিষেক।
এদিন অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে বাজেট প্রসঙ্গ। কেন্দ্রীয় বাজেটকে এককথায় অন্তঃসারশূন্য বাজেট বলে অভি্যোগ করেছেন। তিনি বলেন, ৮৫ মিনিটের বক্তব্যে, অর্থমন্ত্রীর গলায় একবারও বাংলার কথা উঠে আসেনি। বেছে বেছে জোটসঙ্গীদের বাজেটে সাহায্য করা হয়েছে বলেও সুর চড়িয়েছেন তিনি। অভিষেকের মতে, এটি কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম নয় বরং এটি সাবস্ক্রিপশন বেসড ফেডারেলিজম।'
