মিল্টন সেন: শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষার আশ্বাস নবনির্বাচিত বিধায়কের। উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন এলাকাবাসী। চুঁচুড়ার ঐতিহাসিক ‘আদি তোলাফটো’ মোড়কে কেন্দ্র করে ফিরে এল শহরের প্রাচীন ঐতিহ্যের স্মৃতি। 

বহু বছরের পুরনো এই স্থান একসময় ডাচ ও ফরাসি উপনিবেশের ইতিহাস বহন করত। ইতিহাস ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চুঁচুড়া ছিল ডাচদের অধীনে। আরেকদিকে চন্দননগর ছিল ফরাসিদের নিয়ন্ত্রণে। সেই সময় এই দুই শহরের সংযোগস্থল হিসেবেই পরিচিত ছিল বর্তমান তোলাফটো মোড়। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এখান দিয়ে নৌকাও চলাচল করত।

এই ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্মারক হিসেবে তোলাফটো মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল দুটি প্রাচীন স্তম্ভ, যা ডাচ-ফরাসি আমলের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। রবিবার সকালে এক দুর্ঘটনায় সেই ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় এক দোকানদার নিজের দোকানের সামনের বিশাল গাছের ডাল ছাঁটাই করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত একটি স্তম্ভ ভেঙে ফেলেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পৌরসভার প্রতিনিধিরা ও চুঁচুড়া পৌরসভার পৌরপ্রধান সৌমিত্র ঘোষ।

দোকানদারের দাবি, অতীতেও একাধিকবার ওই বড় গাছের ডাল দোকানের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। তাই ডাল ছাঁটাইয়ের কাজ করা হচ্ছিল। এদিকে কোনও পৌর অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করায় ক্ষোভ ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, অসাবধানতা ও নিয়ম না মেনে কাজ করার ফলে ঐতিহ্যবাহী স্তম্ভটি ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছান নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, আদি তোলাফটো দুর্গাপুজো কমিটি এবং পৌরপ্রধান সৌমিত্র ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিধায়ক জানান, এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকে পুনর্নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিধায়ক সুবীর নাগ বলেছেন,“অতীতে কোনও সরকার বা পৌরসভার উদাসীনতা ছিল কি না, সেটা নিয়ে এখন আলোচনা করার সময় নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত চুঁচুড়ার ঐতিহ্যকে রক্ষা করা। পৌরসভা ও স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই ঐতিহাসিক স্থানটি পুনর্নির্মাণ করব।”

বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান পৌরপ্রধান সৌমিত্র ঘোষও। তিনি বলেন, "পৌরসভার অনুমতি নিয়ে দ্রুত নতুনভাবে ঐতিহ্যবাহী ফটক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এই স্থানের ইতিহাস তুলে ধরতে একটি তথ্যফলক বসানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।" 

ঘটনার পর থেকেই এলাকার মানুষের মধ্যে একটাই আশা- চুঁচুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য আবারও নতুন রূপে ফিরে আসুক শহরের বুকে।

 

ছবি পার্থ রাহা।