আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার থেকে খবরের শিরোনামে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)। দলে যোগ দিয়েছেন ২০ জন তৃণমূল সাংসদ। দলের প্রতিষ্ঠাতা উওীয় কুণ্ডুর আদি বাড়ি নদিয়ার রানাঘাটে। বর্তমানে তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বাধীন দলে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ যোগদান করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি উওীয়র মা সীমা কুণ্ডু।
সীমা দেবী জানান, তাঁর ছেলে কখনও প্রচলিত অর্থে রাজনৈতিক মানুষ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন উওয়ীয়। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রানাঘাট ছেড়ে হাওড়ায় চলে যান এবং ‘জাগো বিশ্ব’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। সেই সংগঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করছেন।
সীমা দেবীর কথায়, মানুষের জন্য আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য থেকেই উওীয় রাজনীতির ময়দানে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল এবং এখনও রয়েছে মানুষের সেবা করা। তিনি বলেন, “একদিন ছেলে আমাকে বলেছিল, মা আমাকে আশীর্বাদ করো, যেন আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে পারি এবং মানুষের সেবা করতে পারি।”
জানা যায়, উওীয় রানাঘাট লালগোপাল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে শান্তিপুর কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও লেখালেখির প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ছোটবেলা থেকেই সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন সীমা। ২০২২-২৩ সালের দিকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উওীয় ও তাঁর সহকর্মীরা একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে ‘জাগো বিশ্ব’-র মাধ্যমে বই, খাতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ-সহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। \
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ২০ জন সাংসদ উওীয়র নেতৃত্বাধীন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সীমা কুন্ডু বলেন, “যারা দলে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা রাজনীতির অভিজ্ঞ মানুষ। মানুষের আরও ভালভাবে সেবা করা যাবে বলেই হয়তো তাঁরা এই পথ বেছে নিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা ভেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমি মনে করি।”















