আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার মালদার সভা থেকেও জোর দিয়েছিলেন বাংলা ভাষায়। সিঙ্গুরের সভা থেকেও বাঙালিদের মনের কাছে পৌঁছতে বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার ইতিহাসের ওপর জোর দিলেন নরেন্দ্র মোদি।
নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচারের অন্যতম অস্ত্র প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দিল্লি থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হেভিওয়েট নেতাদের উড়িয়ে আনা। কিন্তু সেই স্ট্র্যাটেজি বারবার বিফলে গিয়েছে।
তবে দু’দিনের বঙ্গ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বাংলা বলার প্রবণতা দেখা গেল অনেকটাই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যে বাঙালিদের আরও কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করছে, ভাষাগত পার্থক্য কমানোর চেষ্টা করছে সেটা অনেকটাই পরিষ্কার।
শনিবার মালদা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মা-কালী আর কামাখ্যা জুড়ে গেল।’ এদিন আবার তিনি শুরু করলেন, ‘সিঙ্গুরের এই পবিত্র ভূমিকে আমার প্রণাম বলে।’
বললেন, ‘সকালে মা কামাখ্যার ভূমিতে ছিলাম। এবার বাবা তারকেশ্বরের মাটিতে এসেছি।’ এদিন ভাষণের সময় একাধিকবার মোদির মুখে শোনা গেল বাঙালি অস্মিতার কথা, বাংলার মনীষীদের কথা, বাংলার বাইরেও বাংলার মনীষীদের স্মরণে রাখতে বিজেপি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার কথা।
এমনকী, কয়েকদিন আগে বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর নিয়ে আলোচনার সময় মোদির মুখে শোনা গিয়েছিল ‘বঙ্কিমদা।’ এদিন উচ্চারণ করলেন, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়জি।’ সিঙ্গুরে ভাষণ দিতে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘গোটা সংসদ, গোটা দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। হুগলি এবং বন্দেমাতরমের সম্পর্ক তো আরও গভীর। বলা হয়, এখানেই ঋষি বঙ্কিমজি বন্দেমাতরমকে পূর্ণতা দিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি এবং দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতিও বিজেপি সরকারের আমলেই হয়েছে। বিজেপি দিল্লিতে সরকার গঠনের পরই তা হয়েছে। বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে এই ভাষা নিয়ে গবেষণায় আরও গতি আসবে। বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখে এদিন উঠে আসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘বিজেপি দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষবাবুর প্রতিমা বসিয়েছে। প্রথম বার লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে। আন্দামান নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। আগে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচি ২৪-২৫ তারিখ থেকে শুরু হত। ৩০ তারিখ শেষ হত। আমরা তা বদলে দিয়েছি। এখন ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষবাবুর জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু করেছি।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলার বাইরে বাংলাভাষীদের ওপর অত্যাচার নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। একাধিক বার অভিযোগ উঠেছে, বাইরে বাংলা ভাষা বলার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করা হয়েছে বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবার বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা গেল সেই বাংলা ভাষাকেই নির্বাচনের আগে অস্ত্র করে তুলতে।
