আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঙ্গা নদী পার করে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে বাংলাদেশে গরু এবং মোষ পাচার করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল এক ভারতীয় পাচারকারীর। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার অন্তর্গত রায়পুর-কুপিলা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে -মৃত ওই যুবকের নাম ওয়াজেদ আলি হালসানা। তার বাড়ি ডোমকলের কুপিলা এলাকায়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- প্রতি বছরই  শীতের মরশুম শুরু হলেই কুয়াশার চাদরের আড়ালের আশ্রয় নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ডোমকল, রানিনগর, জলঙ্গি এলাকায় গরু এবং মোষের চোরাচালান বেড়ে যায়। গতকাল রাতেও কুয়াশার চাদরের আশ্রয় নিয়ে ডোমকলের কুপিলা এলাকার কয়েকজন যুবক নদীর  ঘাট পার করে বাংলাদেশে গরু এবং মোষ পাচার করার চেষ্টা করছিল। 

সূত্রের খবর- ওয়াজেদ ভাল সাঁতার না জানলেও গরু এবং মহিষের লেজ ধরে নদী পার করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই সময় তার জলে ডুবে মৃত্যু হয়। এরপর অন্য কয়েকজন যুবক ওয়াজেদকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে ডোমকল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই ওই যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কুপিলা এলাকার দুই যুবক দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানোর সঙ্গে জড়িত। তারা স্থানীয় বেশ কিছু যুবককে 'রাখাল' হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশে গরু এবং মোষ চোরাচালান করে। সমাজি শেখ নামে মৃত ওই যুবকের এক ভাই জানান, 'আমরা জানতে পেরেছি স্থানীয় দুই ব্যক্তি আমার ভাইকে গরু এবং মোষ বাংলাদেশে পাচার করার জন্য টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেছিল। কিন্তু আমার ভাই ভাল সাঁতার জানত না। আরও কয়েকজনের সঙ্গে নদী পার করতে গিয়ে তার জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।' 
 
ওই ব্যক্তি জানান, 'ভাইয়ের ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পরই আমরা চোরাচালানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ডোমকল থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।' ডোমকল থানার এক আধিকারিক জানান, ইতিমধ্যে তারা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।