আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলা-বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে ও বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ধর্না অবস্থানের আজ দ্বিতীয় দিন। শনিবার সকালে ধর্না মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যোগ দিলেন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়া ভোটাররা। নাম কাটা যাওয়া ভোটারদের সঙ্গে নিয়েই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

মমতা কটাক্ষ করে বললেন, 'অধিকার লুট করছে, ভোটাধিকার লুট করছে, এই লুটেরাদের ক্ষমা রয়েছে? নোটবন্দি, ভোটবন্দি, গ্যাসবন্দি, সংবিধানবন্দি। লড়তে পারে একমাত্র বাংলা। আমরা প্রমাণ করে দেব।' এরপর তিনি আরও বলেন, 'প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছি জনগণের সামনে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে ওরা। এঁদের সকলের আধার কার্ড রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আধার কার্ড নথি হতে পারে। কমিশন সব অমান্য করছে। ভোটারদের নাম কেন কাটা হচ্ছে? জবাব দিন।' 

মমতার আরও বক্তব্য, 'নির্বাচন কমিশন শুধু বিজেপিকে সন্তুষ্ট করছে। আপনাদের জবাব দিতেই হবে মানুষকে, সংবিধানকে। ভ্যানিশ কুমার। পক্ষপাতদুষ্ট বিজেপি, ডার্টি, নটি বিজেপি। যারা ভোটারদের নাম ডিলিট করছে, তারাও তা-ই। স্বার্থপর দৈত্যের মতো কাজ করছে।' 

নাম কাটা যাওয়া সকল ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'এরা আমার ভোটার। আমাকে কাটবে! ঘেঁচু করবে। হোঁদল কুতকুত আছে, তিনি বসে বসে কলকাঠি নাড়ছেন। চার মাস ধরে দখল করেছো বাংলা। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ধনখড়ের মতো বদল করলে আনন্দ বোসকে। আর কত? কত নেবে মানুষের প্রাণ? স্বৈরাচারী, ধ্বংসকারী, হঠকারী। এত মানুষের মৃত্যু, হৃদয়ে মায়া জাগে না! যার নাম কেটেছে, ভাবছে, আমি কি এদেশে থাকতে পারব। আমি পাশে আছে। চিন্তা করবেন না।' 

এদিন সকালে ধর্নামঞ্চে আরও একটি বড় চমক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ঠিক ছিল ১ এপ্রিল থেকে প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা। আজ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, শনিবার থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথীর টাকা। এই ঘোষণায় খুশি বাংলার বেকার যুবক-যুবতীরা। 

এই বছর রাজ্য বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল আগস্ট মাস থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। পরে নবান্ন থেকে মমতা ঘোষণা করেন যে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের আওতায় যদি কেউ সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাঁরা টাকা পাবেন না। পাঁচ বছর এই টাকা দেওয়া হবে। তারপরেও যদি কেউ বেকার থাকেন তাহলে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপরেই ধর্নার দ্বিতীয় দিনে আচমকা মমতার ঘোষণা, ৭ মার্চ শনিবার থেকেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা। 

শনিবার থেকে দেশজুড়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন আপনাকে ২১ দিন আগে গ্যাস বুক করতে হবে, তাহলে আপনার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে ২১ দিন আপনি কী করবেন? আপনি কী খাবেন? আপনি কি মানুষের জন্য খাবারের হোম ডেলিভারি দেবেন? এমনকি কেরোসিনের কোটাও কমানো হয়েছে। আপনি প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এই কারণেই আপনি ভোট মুছে ফেলতে চান? বাংলা ভাঙতে চান? অন্যরা হয়তো আপনাকে ভয় পাচ্ছে, আমরা নই। আমরা আপনার মুখোশ খুলে দেব।”

তিনি জানিয়েছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে রবিবার ফের পথে নামবেন। কালো শাড়ি পরে হাতা, খুন্তি হাতে মহিলাদের মিছিলে শামিল হওয়ার আর্জি জানান মমতা।