দীক্ষা ভুঁইয়া: জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডলই কি উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়কে ফোন করে পাকিস্তানি এজেন্সির নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবি করেছিল? এই প্রশ্ন ঘিরেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসটিএফের এক আধিকারিকের বক্তব্যে হামিমের নাম প্রসঙ্গে ইঙ্গিত মিললেও, পরে তিনি জানান তদন্ত এখনও চলছে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়ের কাছে একটি হুমকি ফোন আসে। অভিযোগ, ফোনকারী নিজেকে পাকিস্তানের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়। এমনকি মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করে। দাবি পূরণ না হলে তাঁর ছেলেকে অপহরণ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের ছবি পাঠিয়ে হামলারও ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপরই উমেশের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এসটিএফ।
তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্ব বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডল একসময় হাওড়ার পিলখানা এলাকায় বাস করতেন এবং সেখানেই কাজ করতেন। সেই তথ্য সামনে আসার পর হুমকি ফোনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও হামিমই ওই হুমকি ফোনের নেপথ্যে ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি এসটিএফ। তদন্তের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার জইশের সঙ্গে যোগসাজেশ রয়েছে এই অভিযোগে বর্ধমানের রেনেসা হাউসিং থেকে হামিমকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসটিএফের দাবি, পাকিস্তানের জইশ ও শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে হামিমের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং এরাজ্যে অন্য কোনও জঙ্গি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
















