মনিরুল হক, কোচবিহার: রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম সম্প্রসারণে বড় চমক হিসেবে উঠে এল কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক মালতি রাভা রায়ের নাম। সরকারের উচ্চস্তর থেকে ইতিমধ্যেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিত্বের বিষয়ে জানানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার ১ জুন রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। তবে কোন ছদপ্তরের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের এই আদিবাসী নেত্রীকে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের (বিসিডব্লিউ) মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকার বা দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। তবুও সম্ভাব্য দপ্তর নিয়ে নবান্ন ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্ত্রিত্বের খবর পাওয়ার পরই উত্তরবঙ্গ থেকে দ্রুত কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মালতি রাভা রায়। রবিবার তিনি কলকাতায় পৌঁছেছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি সরকার উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেই মন্ত্রিসভায় মালতি রাভা রায়ের মতো নেত্রীকে জায়গা দিয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম দফাতেই কোচবিহার জেলা থেকে মাথাভাঙ্গার বিধায়ক তথা প্রভাবশালী নেতা নিশীথ প্রামাণিককে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গ থেকে আরও কোনও জনপ্রতিনিধি সুযোগ পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল।
সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতি রাভা রায়। তাঁর অন্তর্ভুক্তির ফলে কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষা এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। শপথের পরই স্পষ্ট হবে রাজ্য সরকারের কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে মালতি রাভা রায়ের হাতে এবং নতুন মন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় কীভাবে শুরু হয়।















