আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফ  স্কুলে থাকার সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার ফলে বিপুল পরিমাণ বিল বকেয়া পড়েছিল। বিদ্যুতের সেই বিল দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপর। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ দপ্তরের বকেয়া সেই বিল মেটাতে না পারায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে অন্ধকারে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর দাদাঠাকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

গত বছর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ,সামশেরগঞ্জ  এবং সুতি থানা এলাকায় একটি অশান্তির ঘটনার পর হাইকোর্টের নির্দেশে এখনও ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা রয়েছে। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় অংশকে ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দাদাঠাকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যাম্প করে রাখা হয়েছিল। 

কেন্দ্রীয় বাহিনী  ধুলিয়ানের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয় দু'মাসের বেশি সময় থাকার পর প্রশাসনের তরফ থেকে পরে তাদের ডিগরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা দাদাঠাকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার সময় যথেচ্ছ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। এর ফলে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুতের বিল কয়েক হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। যা এই মুহূর্তে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়ার ক্ষমতা নেই। 

দীর্ঘদিন বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকার কারণে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা এসে দাদাঠাকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গিয়েছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গজেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “ধুলিয়ানের একটি ঘটনার পর দীর্ঘদিন আমাদের স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফ জওয়ানরা থাকতেন। সেই সময়ে বিএসএফ জওয়ানরা যথেচ্ছভাবে স্কুলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বর্তমানে স্কুলের প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকার কাছাকাছি বিদ্যুতের বিল বকেয়া পরে গিয়েছে।”
 
তিনি বলেন, “সময় মতো বিদ্যুতের বিল দিতে না পারার কারণে দেড় মাস আগে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গিয়েছেন। এর ফলে স্কুলের প্রথম তলায় ক্লাস করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে গিয়েছে।  দিনের বেলাতেও ওই ঘরগুলিতে সূর্যের আলো ঢোকে না। বিদ্যুতের আলো না থাকার কারণে ঘরগুলি অন্ধকার হয়ে থাকছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, “বিদ্যুতের সংযোগ না থাকায় স্কুলের মিড ডে মিলের রান্না করতেও অসুবিধা হচ্ছে।  স্কুলে বিদ্যুত সংযোগ না থাকায়  জল তোলার জন্য পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পানীয় জলেরও সমস্যা হচ্ছে।  গোটা ঘটনাটি আমরা সামশেরগঞ্জ  থানাকে জানালেও এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
 
ওই প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “স্কুলের কম্পোজিট ফান্ডে  যে টাকা রয়েছে  তা খুবই অল্প। সেই টাকা দিয়ে আমরা স্কুলের বিদ্যুতের বিল মেটাতে পারছি না। কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার আগে স্কুলে মাসে দেড় থেকে দু'হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল হত। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা থাকার সময় তাঁরা বিদ্যুতের বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করেছেন। তার ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের বিল হয়ে গিয়েছে। এই টাকা কে দেবে এখনও ঠিক হয়নি। তার ফলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা প্রচন্ড সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।”

গোটা বিষয়টি নিয়ে সামশেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্কুলের এই সমস্যার কথা তাঁরা জানেন। ওই স্কুলের বকেয়া থাকা বিদ্যুতের বিল জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপারের অফিসে ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে বিদ্যুৎ দপ্তরকে বকেয়া টাকা মেটানো হবে।