আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাকলি ঘোষ দস্তিদার। গত কয়েকদিনে তৃণমূলে তাঁকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। দলনেত্রী তাঁকে লোকসভার বিশেষ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতেই, কাকলিকে নিরাপত্তা দিয়েছে কেন্দ্র। এখানেই শেষ নয়, রবিবার আবার তৃণমূল সাংসদ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে, বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। অন্যদিকে কাকলির ছেলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও জোর চর্চা হয়েছে।

তবে চর্চা কয়েকগুণ বাড়ল সোমবার। কল্যাণ ব্যানার্জির একটি পোস্টে জোর জল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে তৃণমূল  সাংসদ লিখেছেন, 'আপনার আগামী দিনের যাত্রাপথ আরও মসৃণ হোক, আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে খুব ভালো থাকুন — এই শুভকামনাই রইল।
আশা করি, এতদিন ধরে জমে থাকা সমস্ত কালিমা এবার সত্যিই ধুয়ে-মুছে নির্মল হয়ে যাবে।
নতুন অধ্যায়ে অন্তত আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন না পড়ুক — সেই প্রার্থনাও রইল।
শুভেচ্ছা নেবেন।'

যদিও এই পোস্টে কোথাও তিনি কাকলির নাম লেখেননি। কিন্তু ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা অকাতরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম লিখেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মত, কল্যাণ নাম না করলেও, ইঙ্গিতে আদতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেই বলতে চেয়েছেন।

 

বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে রবিবারেই ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ ডা: কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিলই, রবিবার সেই জল্পনার   অবসান একপ্রকার। মধ্যমগ্রামে দলের জেলা কার্যালয়ে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের ইস্তফাপত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে আনেন।

পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের ভেতরের একাংশের বিলাসবহুল বৈভব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং ভোটের কাজে পেশাদার 'ভোট কুশলী' সংস্থার খবরদারি নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বারাসাতের হেভিওয়েট সাংসদ। দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো তাঁর খোলা চিঠিটি একপ্রকার বিস্ফোরক বললেও ভুল হয় না।

 

দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন- 

"পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, শিষ্টাচার, এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব, মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আদর্শনিষ্ঠা ও মানবিক রাজনীতির মাধ্যমেই সমাজে আস্থা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে বলে আমার মনে হয়। এই বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে আমি বারাসাত জেলা সংসদীয় সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই। নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভূঁইফোড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।"