আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের শীর্ষ আদালতে সওয়াল-জবাব। তবে আই-প্যাক মামলার শুনানি শেষ হয়ে গেল না আজই। দেশের শীর্ষ আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারি। এদিন দুপুর দুটোর পরে, ফের মামলার শুনানি হয় বিরতি শেষে। দ্বিতীয় দফায় শীর্ষ আদালতের কাছে ইডি আধিকারিকেরা এফআইআর-এর রক্ষাকবচ চান। সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালত পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ইডির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এর উপর অন্তবর্তী স্থতিগাদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে শীর্ষ আদালত  সব পক্ষকে নোটিস দিয়ে সব নথি ও ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ইডির হয়ে সওয়াল করার সময়ে সিবিআই তদন্ত চেয়েও সওয়াল করেন।

 

ইডি কিংবা কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না, এদিন সুপ্রিম শুনানিতে এই প্রশ্নও উঠে আসে।  

 

আই-প্যাক কাণ্ড প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ৮ জানুয়ারি। তোলপাড় হয়েছিল কলকাতা। গত বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত ভোটকৌশলী সংস্থা আই-প্যাক-এর দপ্তর এবং কর্ণধারের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। ঘটনার পরেই ময়দানে নামেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। প্রথমে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং পরে সল্টলেকের দপ্তরে যান। ইডি'র অভিযোগ ছিল, তদন্ত চলাকালীন একাধিক নথি নিয়ে চলে যান তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অর্থাৎ প্রশাসনিক প্রধান। ঘটনার  প্রতিবাদে পথে নামেন মমতা নিজে, নামান গোটা দলকেও।

ঠিক এক সপ্তাহ পর, দেশের শীর্ষ আদালত, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে এই আই-প্যাক মামলার। মুখোমুখি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সুপ্রিমকোর্টে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে সওয়াল-জবাব পর্ব। সুপ্রিম কোর্ট শুনানির শুরুতেই ইডি'র কাছে জানতে চায়, কেন প্রতীক জৈনের বাড়ি-দপ্তরে তল্লাশি, কিসের তদন্তে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা? ইডি জবাবে জানায়, অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি গত বৃহস্পতিবার একাধিক জায়গায় হানা দেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

 

যদিও বাংলার শাসক দলের সুপ্রিমো ঘটনার দিন থেকেই বারে বারে অভিযোগ করেছেন, যেহেতু আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশল ঠিক করে দেওয়া দল, তাই ভোটের আগে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মাধ্যমে বাংলার শাসক দলের এসআইআর তথ্য-সহ নানা স্ট্র্যাটেজি এককথায় 'ট্রান্সফার' করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, ইডি তদন্ত অভিযান শুরু করার প্রায় ৫ ঘণ্টার বেশি সময় পরে সেখানে পৌঁছন মমতা ব্যানার্জি। 

 

এই বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় সুপ্রিম শুনানিতে কবিল সিব্বল একই কথা বলেন। সওয়াল-জবাব পর্বে এদিন তিনি প্রশ্ন করেন, 'আইপ্যাক-এর কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। যখন ইডি সেখানে গিয়েছিল, তখন তারা জানত যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে।' প্রশ্ন হঠাৎ নির্বাচনের প্রাক্কালে কেনই বা ইডি'র তৎপরতা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কয়লা মামলা নিয়ে শেষ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপরে কেন আবার ২০২৬ সালে, ঠিক রাজ্যের ভোটের মুখে তদন্ত? এদিন শুনানি শেষে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির মুখেও এই কথা শোনা যায়।