ইন্দ্রজিৎ সাহু: পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের ঐতিহ্যবাহী মাদুর শিল্পে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলল। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রুইনানে তৈরি ‘মাদুর হাব’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রথম পর্যায়ে ১১৮ জন শিল্পী নাম নথিভুক্ত করলেও আপাতত ৬৫ জনকে নিয়ে শুরু হয়েছে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধন করেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
শুধু প্রশিক্ষণই নয়, মাদুর হাব থেকেই শিল্পীদের দেওয়া হবে কাঁচামাল, উন্নত মেশিনে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের সুযোগ এবং তৈরি পণ্য সরাসরি কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা। ফলে বাজার খোঁজার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন শিল্পীরা। এছাড়াও শিল্পীদের স্বল্প সুদের ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা সহজেই উৎপাদন শুরু করতে পারেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা সদর এলাকায় একটি স্থায়ী মাদুর বিক্রয়কেন্দ্র খোলা হবে, যা সারা বছর চালু থাকবে। এতে ক্রেতারা সরাসরি সবংয়ের মাদুর কিনতে পারবেন এবং শিল্পীরাও স্থায়ী বাজার পাবেন।
মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া বলেন, “সবংয়ের অধিকাংশ মানুষ মাদুর শিল্পের উপর নির্ভরশীল। বহুদিনের দাবি ছিল মাদুর হাব চালু করা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে তা বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন শিল্পীরা প্রশিক্ষণ, কাজ ও ঋণ সবই একসঙ্গে পাবেন এবং সরকার তাঁদের তৈরি পণ্য কিনে নেবে।” দীর্ঘদিন ধরে দালাল নির্ভর বাজারে সমস্যায় পড়তে হত স্থানীয় মাদুর শিল্পীদের। সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিপণনের নিশ্চয়তা মিলতেই মুখে হাসি ফুটেছে কারিগরদের। তাঁদের কথায়, “এবার মাদুর শুধু ঐতিহ্য নয়, স্থায়ী আয়ের পথ।”
