আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি ও অখিলপুত্র সুপ্রকাশ গিরিতেই আস্থা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। মঙ্গলবার দিঘায় পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী অখিলপুত্র সুপ্রকাশ গিরির সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন‌। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি। জানা গিয়েছে, এই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর যে মূল উদ্দেশ্য জগন্নাথ মন্দির সেই বিষয় নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তিনি সুপ্রকাশকে বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বেশ কিছু দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেছেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রকাশ। দিঘার এই সফরে এলাকার বিধায়ক অখিল গিরি থাকবেন বলেও জানিয়েছেন সুপ্রকাশ। 


সুপ্রকাশ গিরি বর্তমানে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান এবং কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য তিনি মঙ্গলবার হাজির ছিলেন। তমলুক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের দুই সভাপতি পীযুষ পন্ডা ও অসিত ব্যানার্জি–সহ কয়েকজন জেলা নেতৃত্বও ছিলেন। এই দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ বদল নিয়ে অনেক কানাঘুষো হয়েছে। মূলত অধিকারী পরিবার তৃণমূল থেকে সরে যাওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতি নিয়ে সব সময় তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব নজরে রেখেছেন। 

এই জেলার পরপর বেশ কিছু গোষ্ঠী কোন্দল, রেষারেষি এমনকি মারামারি পর্যন্ত সামলাতে হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের সভাধিপতি ও বিধায়ক উত্তম বারিকের অনুগামীদের আজ দিঘা হেলিপ্যাড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দেখা গেলেও উত্তম বারিক স্বয়ং হাজির ছিলেন না। কয়েক মাস আগে বনদপ্তরের মহিলা আধিকারিককে কটু কথা বলার কারণে মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হয়েছে অখিল গিরিকে। তারপর থেকেই উত্তম বারিককে পরপর অনেক দায়িত্ব দিয়েছিল দল।

কিন্তু অখিল গিরি মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ছায়াসঙ্গী। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পর মনে করা হচ্ছে তিনি বেশ কিছু দায়িত্ব দিতে চলেছেন অখিল ও তাঁর পুত্র সুপ্রকাশকে। এদিন হেলিপ্যাড ময়দানে পুষ্পস্তবক এবং মমতা ব্যানার্জির ছবি নিয়ে সংবর্ধনা জানান পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের সম্পাদক অশোক কুমার পন্ডা–সহ বেশ কয়েকজন পন্ডিত। মন্দিরের সূচনা হলে পুজো পাঠ বা পন্ডিতদের নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।