আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল। বুধবার রাতে স্কুল চত্বরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকার স্তূপ উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। পাশাপাশি বিশাল পুলিশ বাহিনীও স্কুলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। রাতভর উদ্ধার হওয়া টাকার হিসাব করতে দুটি টাকা গোনার মেশিন ব্যবহার করা হয়। স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পাল দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ স্কুলের ভর্তি বাবদ নেওয়া টাকা। তাঁর বক্তব্য, এপ্রিল মাস থেকে অ্যাকাউন্টস বিভাগ সেই অর্থ জমা করে রেখেছিল এবং তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা ছিল। স্কুলের স্টুডেন্টদের জন্য নির্ধারিত সিক রুমে পাওয়া কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধার এর বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি ডেটা ব্যাংক তৈরির কাজ চলছে। সেই সূত্রেই স্কুলে গিয়ে বিভিন্ন বেনিয়মের পাশাপাশি এই বিপুল নগদ অর্থের হদিশ মেলে। তাঁর দাবি, একটি প্যাকেট থেকেই প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে এবং মোট টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। এখানেই শেষ নয়। বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ স্কুলের নয়। তাঁর দাবি, এই টাকা কাঁচরাপাড়া পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক-এর ‘ব্ল্যাক মানি’ হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থা ইডি সিবিআই এর ভয়ে এই অর্থ স্কুলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং স্কুলে এত বিপুল পরিমাণ নগদ কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঁচরাপাড়া জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে স্থানীয় মহলে। উদ্ধার হওয়ার টাকার পরিমান ১ কোটি ৭৭ লক্ষ এই টাকা উদ্ধারে জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতির কারণে স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্টেন্ট সায়ন ঘোষকে আটক করেছে বীজপুর থানার পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।















