আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নানের পাশাপাশি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হিসেবে পালিত হচ্ছে গো দান। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে স্নানের পর অসংখ্য পুণ্যার্থী গো দানের মাধ্যমে তাঁদের পুণ্যকর্ম সম্পন্ন করছেন। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, গঙ্গাসাগরে গো দান করলে মহাপুণ্য লাভ হয় এবং পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি নিশ্চিত হয়—এই বিশ্বাস থেকেই এই দানের গুরুত্ব তাঁদের কাছে অপরিসীম।

বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে এই গো দান। বৃহস্পতিবারও তার অন্যথা হয়নি। ভোররাত থেকেই সাগরদ্বীপের নির্দিষ্ট স্থানে গো দানের আয়োজন শুরু হয়। বিভিন্ন আখড়া ও পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে গরু বা গরুর প্রতীক হিসেবে দান সম্পন্ন করছেন পুণ্যার্থীরা।

 অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে গরু দান করা না গেলেও শাস্ত্রসম্মত নিয়মে প্রতীকী গো দানও করা হচ্ছে। দানের সঙ্গে গরুর খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীও প্রদান করছেন ভক্তরা।


হিন্দুদের কাছে গরু দেবতার প্রতীক এবং গরুদানের মাধ্যমে স্বর্গলাভের পথ প্রশস্ত হয়। বিশেষ করে মকর সংক্রান্তির দিনে গঙ্গাসাগরে এই দানের মাহাত্ম্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস। তাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিনরাজ্য থেকে আগত পুণ্যার্থীরা গো দান করতে ভিড় জমাচ্ছেন সাগরতটে।

 


গো দান উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আবহ আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তিগীতিতে মুখরিত হয়ে উঠছে গঙ্গাসাগরের তটভূমি। বহু পুণ্যার্থী জানিয়েছেন, পূর্বপুরুষের মঙ্গল কামনায় ও পারিবারিক শান্তির আশায় তাঁরা প্রতি বছর গঙ্গাসাগরে এসে গো দান করেন।


প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গো দানকে কেন্দ্র করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় দান সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 


গঙ্গাসাগর মেলায় গো দান শুধু একটি আচার নয়, এটি বিশ্বাস, ভক্তি ও হাজার বছরের সংস্কৃতির ধারক। পুণ্যস্নান, পিণ্ডদান ও গো দানের মধ্য দিয়েই গঙ্গাসাগর মেলা পূর্ণতা পায়—এমনটাই মনে করছেন পুণ্যার্থীরা।