আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাসর রাত কাটবে হাসপাতালের বেডে। হবে না বৌভাত বা ফুলশয্যা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে নববধূ। পাশে দাঁড়িয়ে নতুন বর৷ পরিস্থিতি ভেবেই চোখ ছল ছল করে উঠল নবদম্পতির। 

নববধূ ছাড়াও সোমবার রাতে বিয়ের নিমন্ত্রণ খেয়ে বাড়ি ফিরে অসুস্থ বরযাত্রী ও কন্যাপক্ষ–সহ শতাধিক মানুষ৷ ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানা এলাকায়।


জানা গিয়েছে, বাগদার চ্যাঙ্গা চাঁদপুর গ্রামের নারায়ণ মুন্ডার মেয়ে সুকুমণি মুন্ডার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল করঙ্গ গ্রামের যুবক ইন্দ্রজিৎ মুন্ডারির সঙ্গে৷ সোমবার রাতে চাঁদপুর গ্রামে বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে এসেছিলেন ইন্দ্রজিৎ। বিয়ের পরে নাচ গান খাওয়া দাওয়া ভরপুর চলেছিল। চাঁদপুরে গ্রামের বহু মানুষ উপস্থিত ছিল নিমন্ত্রিত হয়ে। ভুরিভোজের পরে কন্যাপক্ষকে নিমন্ত্রণ করে নবদম্পতিকে নিয়ে বাড়ি ফেরে বরপক্ষ। বাড়ি ফেরার পরেই ঘটে বিপত্তি। একাধিক ব্যক্তির পেটে গোলযোগ দেখা যায়। অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় একে একে অনেককেই। 

দুই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিয়েবাড়ি থেকে খেয়ে বাড়ি ফেরার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই এলাকার মানুষজন পেটে ব্যথা ও সেই সঙ্গে পাতলা পায়খানার মতো সমস্যার ভুগতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে মাথা ধরার মতো সমস্যাও তৈরি হয় অনেকের।

এরপরেই একে একে তাঁদেরকে বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বরপক্ষের তিরিশ ও কন্যা পক্ষের ৬০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে শিশু ও মহিলাও রয়েছে।


হাসপাতালের চিকিৎসক সুদীপ তালুকদার বলেন এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে একজনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা অনেকটাই সুস্থ। তাঁদের অনেককে ছেড়ে দেওয়াও হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ জন ভর্তি রয়েছে।


অসুস্থরা জানিয়েছেন, ‘‌কীভাবে কি হল জানিনা। আমরা সবাই খাওয়া–দাওয়া করে বাড়ি গিয়েছি। তারপরে পেটে ব্যথা ও সেইসঙ্গে বমি।’‌ আষাঢ়ু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা মণ্ডল অ্যাম্বুল্যান্স এর ব্যবস্থা করেন এবং বলেন ‘‌যে কোনও সমস্যায় আমরা পাশে আছি।’‌ বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পরিতোষ সাহা বলেন, একশোর উপর অসুস্থ হয়ে এসেছে। আমরা সর্বপ্রকার সহযোগিতা করছি। চিকিৎসকরাও সার্বিকভাবে তাদের সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করছেন।’‌
 
হাসপাতালে আসেন বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুদেবী মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‌ডাক্তারবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে। এত মানুষ এক সঙ্গে অসুস্থ হল! এর কারণ জানতে তাদের মলমূত্র পরীক্ষা করবার জন্য বারাসতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’‌ বিয়ের রাতে খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ায় মন খারাপ পরিবারের৷ বুধবার রাতের বৌভাতের আসর আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবাই চাইছেন দ্রুত সকলকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর।