আজকাল ওয়েবডেস্ক: গতকালের চুঁচুড়ার চাঁদনী ঘাটে অকস্মাৎ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন দুই মৎসজীবী। মাঝ গঙ্গায় নৌকা নিয়ে জাল ফেলার সময় হঠাৎই ঝড় ওঠে। আর তাতেই গঙ্গায় তলিয়ে যান অমিত মন্ডল এবং অনুপ বিশ্বাস। এঁদের মধ্যে অনুপকে উদ্ধার করা গেলেও অমিত তলিয়ে যান। এখনও চলছে উদ্ধার অভিযান। এই ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকাবাসীর মধ্যে।

 

জানা গিয়েছে, জেলার চকবাজার এলাকায় মৎসজীবীদের বাস। তবে মাঝেমধ্যেই তাঁরা মূলত গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে গতকাল গঙ্গায় দু'জন মিলে গঙ্গায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ডিঙি নৌকো নিয়ে এলাকায় গঙ্গায় মাছ ধরতে যান। কিন্তু হঠাৎ তুমুল ঝড় ওঠে। ফলে ডিঙি নৌকো উল্টে যায়। আর তাতেই তলিয়ে যান দু'জনে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মৎসজীবীরা গঙ্গায় নেমে তল্লাশি শুরু করেন। সাঁতার জানায় অনুপকে উদ্ধার করা যায়। কিন্তু অমিত সাঁতার জানলেও গঙ্গায় তলিয়ে যান।

 

স্থানীয় কাউন্সিলর ঝন্টু বিশ্বাস বলেন, "খুবই দুঃখজনক ঘটনা। স্থানীয়রা বর্শি নিয়ে অমিতকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। এর পর বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীকে ডাকা হয়। উদ্ধার কাজ চালাতে আসেন নাগরিক প্রতিরক্ষাবাহিনী। তবে রাত পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই মৎসজীবীর।"

 

তিনি আরও জানান, এলাকায় ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অমিতের স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে, বাচ্চাও রয়েছে। এ ছাড়া বয়স্ক বাবা মা-ও রয়েছে। তাই সকলেই খুব উদ্বিগ্ন। অনেকেই ভাবছেন, অমিত সাঁতার জানত হয়তো সে গঙ্গার কোনও পাড়ে উঠেছে। তাই জলে-স্থলে সমস্ত জায়গাতেই উদ্ধারাভিযান চালানো হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, গতকাল সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কারই ছিল। দুপুর গড়াতেই কালো হয়ে আসে আকাশ। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে নামল তুমুল বৃষ্টি। স্বস্তি ফিরল কলকাতায়। হাওয়া অফিস জানায়, এই পরিস্থিতি শুধু কলকাতা নয় গোটা রাজ্যে জুড়ে। দুই দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদেও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। বঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। দমকা বাতাস এবং হাওয়ার গতি ছিল ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা।

 

এই পরিস্থিতি বজায় ছিল পূর্ব বর্ধমান থেকে শুরু করে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামেও। সেখানেও প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস এবং বজ্রপাত হয়। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে দেখা যায়। পাশাপাশি চলে প্রচুর বৃষ্টি। ফলে সাময়িক এই বৃষ্টি সকলকেই বেশ স্বস্তি দেয়।