আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ি থেকে মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা দিতে বের হয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করল এক ছাত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার অন্তর্গত নয়নসুখ ব্রাহ্মণ ঘাট এলাকায়।

যদিও লালু শেখ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি গোটা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তৎপরতার সঙ্গে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। এরপর ফরাক্কা থানার আইসি সুজিত পাল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছাত্রীকে বুঝিয়ে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার অন্তর্গত নয়নসুখ স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয় এসেছিল।

কিন্তু তারপর সকলের অগোচরে ওই ছাত্রী স্কুলের ঠিক পিছনে গঙ্গা নদীর ঘাটে গিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। 
পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি ওই ছাত্রীর মা মারা গিয়েছেন। এক আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে ওই ছাত্রী পড়াশোনা করে। প্রেমঘটিত এবং বিয়ে সংক্রান্ত কিছু কারণে ওই ছাত্রী মানসিক কোনও সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সম্ভবত সেই কারণেই ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টার মতো চরম পথ বেছে নিতে গিয়েছিল।'

পুলিশের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের কথা বলার জন্য ফরাক্কা থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। ফরাক্কা থানার আইসি বলেন,"আমি নিজে ওই ছাত্রীকে সবরকম ভাবে বুঝিয়েছি।আর্থিক কারণে ওই ছাত্রীর পড়াশোনায় কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরী হবে না। আমি ওই ছাত্রীর পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নেব বলেও জানিয়েছি।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,ওই ছাত্রীর বাড়ি মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর থানার টাউনশিপ মোড় এলাকায়। এবছর তার মাধ্যমিক পরীক্ষার আসন পড়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নয়নসুখ স্বর্ণময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার সকালে অন্য কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ওই ছাত্রী স্কুলে হাজির হয় ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। 
সূত্রের খবর, বাকি ছাত্রছাত্রীরা যখন পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ছিল সেই সময় হঠাৎ করেই সকলের চোখ এড়িয়ে ওই ছাত্রী স্কুলের ঠিক পিছনেই ব্রাহ্মণ ঘাটে চলে যায়। 

নদীতে এই মুহূর্তে জল কম থাকার কারণে ওই ছাত্রী ঘাট থেকে নদীর জলে ঝাঁপ মারতে পারেনি। নদীর ঘাটে নিজের বই এবং ব্যাগে রেখে ধীরে ধীরে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল।

সেই সময় ওই এলাকা দিয়ে যেতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নয়নসুখ অঞ্চল সভাপতি লালু শেখ ওই ছাত্রীকে দেখে ফেলেন। এরপর সময় নষ্ট না করে লালু শেখ দৌড়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর হাত ধরে তাঁকে জল থেকে তুলে আনেন।

সঙ্গে সঙ্গে ফরাক্কা থানায় খবর দেওয়া হয়। লালু শেখ বলেন ,"আর কয়েক মুহূর্ত দেরি হলে ওই ছাত্রী জলে ডুবে যেত। ওই ছাত্রী আমাকে জানিয়েছে সে দাদুর বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ সম্প্রতি তাঁর বাবা বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই ছাত্রী পড়াশোনা করতে চায়। বাড়ি থেকে সহযোগিতা না পেয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে গিয়েছিল বলে আমাদের জানিয়েছে।"

সূত্রের খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী এলাকায় উপস্থিত জনগণকে জানায় মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলেই তার বাড়ি থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল। 

নিজের বিয়ে আটকানোর জন্যই সে আত্মহত্যার মতো চরম পথ  বেছে নিতে গিয়েছিল। যদি অন্য একটি সূত্রের দাবি, ওই ছাত্রীর  সঙ্গে অন্য এক যুবকের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে।

যদিও পরিবারের লোকেরা সেই সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হননি। তাঁরা অন্যত্র ওই ছাত্রীর জন্য পাত্রের খোঁজ শুরু করায় সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।