আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিড়। বুধবার চরম বৃষ্টিতেও সেই ভিড় অব্যাহত। যদিও গতকালের তুলনায় এদিন সংখ্যাটা কিছুটা কম বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন ওই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করেছেন।

সকাল থেকেই বৃষ্টির কারণে সীমান্ত এলাকায় চরম দুর্ভোগ। জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের পাশেই একটি নবনির্মিত বাড়িতে তাঁদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখনও দফায় দফায় নতুন করে বাংলাদেশি নাগরিকেরা সীমান্ত এলাকায় এসে পৌঁছচ্ছেন। 

স্থানীয়দের অনুমান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বই কমবে না। আখতারুল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি জানান, আড়াই বছর আগে দালালের মাধ্যমে তিনি ভারতে এসেছিলেন। দুর্গানগর এলাকায় থাকতেন বলে দাবি তাঁর।

ভারতে আসার জন্য দালালকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর কাছে কোনও ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড নেই। এসআইআর আতঙ্কের জেরেই এখন দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দাবি আখতারুলের। 

অন্যদিকে, হৃদয় মোল্লা নামে আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বারাসত ও মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই এদেশে রয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। যদিও বাবা-মা বাংলাদেশের বাসিন্দা হওয়ায় ২০০২ সালের আগের বৈধ কোনও নথি দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই থানার তরফে তাঁকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

হৃদয়ের দাবি, তাঁদের আদি বাড়ি বাংলাদেশের খুলনায়। বর্তমানে নিজেদের যাবতীয় জিনিসপত্র ব্যাগ ও পোটলায় ভরে সীমান্তে হাজির হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের অনেকেই পেটের টানে অবৈধভাবে ভারতে এসে বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। 

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা এবং এসআইআর আতঙ্ককে কেন্দ্র করে এখন পুলিশি ঝামেলা এড়াতেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। এদিকে, পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন ও বিএসএফ। একইসঙ্গে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।