মিল্টন সেন, হুগলি: মহিলার নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। টাকা ঢুকছে পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তাও আবার এক দু’বার নয়, সেটা চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। বাধ্য থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে রিষড়া পুরসভার অন্তর্গত ১ নম্বর ওয়ার্ডে। বঞ্চিত উপভোক্তা ওই এলাকারই বাসিন্দা উর্মিলা দেবী।
মহিলার অভিযোগ, এক নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের আত্মীয় বিজয় সাউয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকতো। নাম তাঁর থাকলেও তিনি টাকা পেতেন না। একাধিকবার কাউন্সিলরের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছেন। কোনও কাজ হয়নি। ব্যাঙ্কে গিয়ে তথ্য যাচাই করে জানতে পেরেছেন টাকা বিজয় সাউ নামে ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে।
উর্মিলা দোবীর অভিযোগ, তাঁর নামে ফর্ম অথচ ব্যাঙ্ক কাউন্ট দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলরের আত্মীয়র। যখন তিনি এই বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করেন তখন তাঁকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। শুরু থেকেই লক্ষীর ভাণ্ডারে তাঁর নাম নথিভুক্ত ছিল। তখন রাজ্য সরকার মাসে ৫০০ টাকা করে দিত। তারপর সেই টাকা ১ হাজার হয়েছে। তখনও তাঁর নাম নথিভুক্ত ছিল। অথচ তিনি টাকা পাননি। ২০২৪ সালে অনেক দরবার করার পর তাঁকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে আর তাঁকে কোনও টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি। তিনি সব জায়গায় দরবার করেছেন। সব জায়গা থেকেই তাঁকে ঠিক করে দেওয়া হবে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রাপ্য লক্ষী ভাণ্ডারের টাকা পাননি। এই বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি লিখিতভাবে একটি অভিযোগ করেছেন শ্রীরামপুর থানায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রথমে রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তাঁরাই অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবেন। কিন্তু বুধবার ফর্ম প্রকাশের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সকলকেই এই ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকের তালিকায় অনেক বেনোজল ঢুকে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি নাম ঠিকানা ধরে পড়ে শোনান যে কীভাবে এক পুরুষ মহিলাদের জন্য চালু প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। তাই প্রাপকের তালিকা স্বচ্ছভাবে তৈরি করার জন্য সকলকে ফর্ম পূরণ করতে হবে। এর পর থেকে রাজ্যে নানা জায়গায় ভুয়ো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান প্রাপককে পাওয়া গিয়েছে। এবার খোঁজ মিলল রিষড়াতে।















