আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস ঘোষণা করেছিলেন তাঁর এলাকায় যদি কেউ ঝটকা মাংসের দোকান খোলেন তাহলে তাঁকে ১০ হাজার টাকা নগদ আর্থিক পুরস্কার বা অনুদান দেওয়া হবে। এবার একই ঘোষণা করে বসলেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি। নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লিখেছেন, “রঘুনাথগঞ্জ শহরে যে ঝটকা-মাংসের দোকান খুলবে তাকে আমি ১০ হাজার টাকা সাহায্য করব।” সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি বিধায়কের এই ডাকে সাড়া দিয়ে কতজন ঝটকা মাংসের দোকান খোলার জন্য এগিয়ে আসেন সেদিকেই সকলের নজর থাকবে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিধানসভা এলাকায় কোথাও ঝটকা মাংসের দোকান নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ জবাই করা মাংস খান। অন্যদিকে, হিন্দুদের সংস্কার এক কোপে বলি দেওয়া মাংস খাওয়ার।”
তিনি বলেন, “তাই আমি উদ্যোগ নিলাম আমার বিধানসভায় এলাকায় ঝটকা মাংসের দোকান খোলার জন্য। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রচুর মানুষ আমার কাছে এই দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই আমি ঘোষণা করেছি রঘুনাথগঞ্জ শহরে যে ঝটকা মাংসের দোকান খুলবে তাঁকে আমি ১০ হাজার টাকা সাহায্য করবো। এই বিষয় নিয়ে কারও কোনও আপত্তি থাকা উচিত নয়,কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিষয় ও বিশ্বাস। আমি আশাবাদী খুব শীঘ্রই অনেকেই জঙ্গিপুর বিধানসভা এলাকায় ঝটকা মাংসের দোকান খুলতে আগ্রহ দেখাবে।”

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, পশুর শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং গলার রক্তনালি ধারালো ছুরি দিয়ে কাটা হয়, যা হালাল পদ্ধতি নামে পরিচিত। অন্যদিকে, ঝটকা পদ্ধতিতে সাধারণত এক কোপে পশুর মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। তবে, বৈজ্ঞানিকদের মতে সঠিকভাবে রান্না ও পরিষ্কার করার পর হালাল বা ঝটকা উভই মাংসের পুষ্টিগুণ প্রায় সমান থাকে। পশু বা পাখি কাটার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে মাংসের পুষ্টিগুণে বড় কোনও তারতম্য ঘটে না।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস নিজের বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ঝটকা-মাংসের দোকান খোলা হলে দোকানদারকে ১০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে একই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা হালাল মাংস খাবে আর আমাদেরও (পড়ুন হিন্দুদের) হালাল মাংস খেতে হবে এর তো কেউ মাথার দিব্যি দেয়নি।
রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ঝটকা-মাংসের দোকান খোলাকে উৎসাহিত করেছেন বিজেপির এই বিধায়ক। তিনি বলেন, “বহু ছেলেমেয়েরা কাজকর্ম খুঁজছেন। আমি তাঁদেরকে উৎসাহিত করছি তাঁরা যেন মুরগি বা খাসি- এই ধরনের ঝটকা মাংসের দোকান খোলেন এটা ভাল ব্যবসা।”
















