আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় শুনানিতে হাজির হলেন বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। শুক্রবার বনগাঁর একটি মাদ্রাসায় এসআইআরের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের স্বপক্ষে একাধিক নথিপত্র জমা দেন।
তবে বিজেপি বিধায়কের শুনানিতে হাজির হওয়ার এই ঘটনাকে ঘিরে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এর পাশাপাশি, প্রয়োজনে স্বপন মজুমদারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে শাসকদল।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। ওই তালিকায় তাঁর বাবা-মায়ের নামও অনুপস্থিত ছিল।
সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুনানির পর স্বপন মজুমদার বলেন, ‘এই দেশেই আমার জন্ম। ১৯৯৯ সালে আমার ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হয়। কাজের সূত্রে তখন মুম্বই চলে গিয়েছিলাম। ২০১২ সালে ফিরে এসে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করি। ১৯৯৯ সালেই আমার বাবা মারা যান। তাই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবার নাম নেই।’
তিনি আরও জানান, মামাবাড়ির নথিপত্র দিয়ে ম্যাপিং করা সম্ভব ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। বিধায়ক জানিয়েছেন, এসআইআরের শুনানিতে গিয়ে জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, বাবার মৃত্যু শংসাপত্র-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘যে দলের বিধায়ক তিনি, সেই দলই চক্রান্ত করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। স্বপনবাবু নিজেই বুঝুন, তিনি কোন দল করেন। যদি ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যায়, প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকেই এখান থেকে তাড়াতে দেবেন না।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এসআইআর শুনানি ঘিরে একাধিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে রাজ্যে। সম্প্রতি, বৃদ্ধা মাকে ভ্যানে চাপিয়ে বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানির জন্য হাজির হতে দেখা গিয়েছে ছেলেকে।
জানা যায়, ওই এলাকার ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা পানু চৌধুরীর দু'চোখ প্রায় অন্ধ। মা সুরদ্ধনি চৌধুরীকে নিয়ে তাঁর সংসার। চোখ প্রায় অন্ধ হলেও অভাবের কারণে তিনি এলাকায় ভ্যান চালিয়েই রোজগার করেন।
খুবই কষ্টের সংসার বলেই এলাকাবাসীর দাবি। এর মধ্যেই তাঁরা ডাক পেয়েছেন এসআইআর শুনানিতে। বাড়িতে নোটিস এসেছে। প্রাথমিকভাবে নোটিস পাওয়ার পরে দু'জনেই ঘাবড়ে যান।
কী হবে এই চিন্তায় আকুল হয়ে ওঠেন তাঁরা। মঙ্গলবার ছিল তাঁদের শুনানির দিন। তাঁদের কাছে শুনানির জন্য বিডিও অফিসে পৌঁছনোটাই একটা বড় সমস্যা।
শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মা'কে নিয়ে নিজের সাইকেল ভ্যান চালিয়ে বিডিও অফিসে এসে পৌঁছন পানু। গোটা রাস্তায় মা ভ্যানের হ্যান্ডেল ধরে ছেলেকে সহযোগিতা করেছেন। হর্ন বাজাতে বাজাতে ভ্যান চালিয়েছেন পানু।
বিডিও অফিসে পৌঁছনোর পর সকলেই দেখেছেন এই দৃশ্য। কার্যত এসআইআর শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের একের পর এক হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে।
কোথাও বৃদ্ধ বা অশক্তদের লাইনে বহু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে আবার কোথাও শুনানির জন্য তাঁদের সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে আসতে হয়েছে। এমনকী সন্তান প্রসবের দিনও প্রসূতি মা'কে শুনানির জন্য আসতে হয়েছে শুনানি কেন্দ্রে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলতে বিজেপির নির্দেশে হচ্ছে এই হয়রানি। যদিও বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।
