আজকাল ওয়েবডেস্ক: রথযাত্রাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বড় আকারে সরকারি অংশগ্রহণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রথযাত্রার আগে ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ইস্কন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন রথযাত্রায় সরকারের ভূমিকা মূলত ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার থেকে রাজ্য সরকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে রথযাত্রার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে।
তিনি জানান, 'তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মেলায় সরকারি সেবা কেন্দ্র খোলা হবে। সেখানে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা-সহ ন্যূনতম পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে এই উদ্যোগে যুক্ত করা হবে।'
এছাড়াও প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই অর্থ মূলত পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী রথের সংরক্ষণ, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রথম বছরে তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে আগামী দিনে তা সংশোধনের আশ্বাসও দেন তিনি।
ধর্মীয় পর্যটনের উন্নয়নে রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মঠ, মন্দির এবং ধর্মীয় স্থানের সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী-সহ একাধিক প্রাচীন মন্দিরকে হেরিটেজের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে তিনি আরও জানান, ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণের কথাও জানান। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।
শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের সুবিধার্থেও একাধিক উদ্যোগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্যাওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সরকারি সেবা কেন্দ্র তৈরি হবে, যেখানে বিশ্রাম, পানীয় জল, ওআরএস, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি জল্পেশ, জয়ন্তি এবং তারকেশ্বর—এই তিনটি প্রধান তীর্থকেন্দ্রকে ঘিরেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণের প্রতি সোমবার সরকারি হেলিকপ্টার থেকে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকের শেষে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বনদপ্তরকে নির্দেশ দেন, রথযাত্রার ৭৫টি সরকারি শিবিরে চারাগাছ বিতরণের ব্যবস্থা করতে। বিশেষভাবে তিনি বলেন, ইউক্যালিপটাসের চারা নয়, ফলের গাছ এবং উপকূলবর্তী এলাকায় বেশি করে নারকেল গাছের চারা বিতরণ করা হোক। তিনি জানান, অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাজ্যে ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৪ জুলাই তারকেশ্বর ধামে এবং ১৬ জুলাই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইস্কনের রথযাত্রায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন। বক্তব্যের শেষে সকলকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি “জয় জগন্নাথ” ধ্বনি দিয়ে ভাষণ শেষ করেন।
















