আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে জটিলতা থামার লক্ষণ নেই। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতারা৷ যদিও তৃণমূলের করা সেই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তুললেন ইডির আইনজীবী৷ 

শুধু তাই নয়, দ্বিখণ্ডিত তৃণমূলের এই অবস্থায় কালীঘাট শিবিরের আদৌ এই মামলা করার কোনও রকম এক্তিয়ার আছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠল এজলাসে। ইডির আইনজীবী এসভি রাজু বলেন, তৃণমূল যে এই মামলা করেছে তার 'অথরাইজেশন লেটার' কোথায়?

এই মামলা করার অনুমোদন তাঁদের কে দিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত, কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে দোলা সেন এবং ডেরেক ও ব্রায়েন যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলা করার বৈধ আইনি অধিকার নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠে গেল।

ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিই দলের নীতিনির্ধারণী সংস্থা। সেই সংস্থা ডেরেক ও’ব্রায়েন ওই কমিটির একজন সদস্য হলেও তিনি নিজে কোথাও উল্লেখ করেননি যে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তাঁকে এই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।

সে কারণে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনও ব্যক্তি দলের হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন না বলেই ইডির দাবি। এদিকে, তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি পাল্টা বলেন, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পরিচয় বা বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার তদন্তকারী সংস্থার নেই।

একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের মোট ন’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। শুনানির সময় বিচারপতি জানান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশ ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে এবং সেই বিষয়ে তদন্তও চলছে।

এই অবস্থায় তদন্তকারী সংস্থা তাদের অনুসন্ধানের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট বিচারকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। সেই কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
 
প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের পর দল ভেঙে খান খান। তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বেড়েছে অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিতর্কে। তালা পড়েছে ঘাস-ফুলের ব্য়াঙ্ক তহবিলে। সম্মুখ সমরে নেমেছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত-তৃণমূল।

মামলা গড়িয়েছে আদালতে। তৃণমূলের কয়েকশো কোটির তহবিল নিয়ে বড় পদক্ষেপ করেছে ইডি। তৃণমূল  কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্ট নিয়ে দিনে দিনে বিতর্ক বেড়েই চলছে।

একাধিক ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সি অফিস ও বাড়িতে চলেছে তল্লাশি। ব্যবসায়ী ও ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক তহবিলের টাকা কোনও রকম লেনদেন হয়েছিল কিনা সেই তথ্য যাচাইয়ের জন্যই এই তল্লাশি অভিযান বলে সূত্রের খবর।