আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ আগামী মার্চ মাসেই ঘোষণা হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এর মধ্যেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের ডিজি নির্দেশে আটজন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে নোডাল অফিসার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বুধবার ভবানী ভবন থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সাতজন ডিআইজি এবং একজন আইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

 সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর :

নির্বাচনের আগে ও পরে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বরাবরই থাকে। সেই ভুয়ো তথ্য থেকে অশান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুনীলকুমার যাদবকে। বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের উপকূল নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী সময়ে ফেসবুক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি জোরদার করা হবে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।

 ভিন রাজ্য থেকে অস্ত্র-মাদক ঠেকাতে কড়া নজর :
ভোটের সময় সন্দেহজনক গাড়িতে তল্লাশি, চেকপোস্টে নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে ভিন রাজ্য থেকে অস্ত্র বা মাদক রাজ্যে ঢুকতে না পারে, তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সব্যসাচীরমন মিশ্রকে। তিনি বর্তমানে রাজ্য পুলিশের সিআইএ- দপ্তরে আইজি পদে কর্মরত। পরিবহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নজরদারির দায়িত্ব থাকবে তাঁর কাঁধে।

 দ্রুত পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করবেন অঞ্জলি সিংহ :
নির্বাচনের আগে-পরে বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা থাকে। তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত পুলিশ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই দায়িত্ব সামলাবেন অঞ্জলি সিংহ, যিনি বর্তমানে ডিআইজি ট্রাফিক পদে রয়েছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনী স্থানান্তর ও রুট ম্যানেজমেন্টে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

 ভিআইপি নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ একাধিক জাতীয় ও রাজ্যস্তরের নেতা অংশ নেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আভারু রবীন্দ্রনাথকে। বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দায়িত্বে রয়েছেন।

 বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়:
নির্বাচন উপলক্ষে বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন এইচকিউআরএস-এ কর্মরত রশিদ মুনির খান।
বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কঙ্করপ্রসাদ বারুইকে।

পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় দেখবেন বিশ্বজিৎ ঘোষ, যিনি বর্তমানে আইনি পরামর্শ বিভাগের ডিআইজি পদে কর্মরত।

রাজ্যে ভোটের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। তার আগেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে তৎপর রাজ্য পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা, নজরদারি, নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই নোডাল নিয়োগ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।