আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে 'হালাল' বন্ধের ডাক। উঠল বড়সড় দাবি। বুধবার 'অন্তরবোধ ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংগঠনের তরফে জানানো হয়, এবিষয়ে মানুষের মধ্যে চেতনা বাড়াতে 'বাংলার পলান্ন' নামে একটি উৎসবের আয়োজন করবে তারা। যেখানে পলান্ন বা বিরিয়ানি বানানোর একটি প্রতিযোগিতা হবে। প্রতিযোগীরা স্বল্প টাকার 'এন্ট্রি ফি'-র মাধ্যমে সেখানে অংশগ্রহণ করবেন। সেরা রাঁধুনীদের নিয়ে কলকাতায় একটি চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হবে। যেখানে জয়ীকে দেওয়া হবে একটি চার চাকার গাড়ি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হবে। 

এদিন এই উৎসবের 'চিফ প্যাট্রন' স্বামী বিশ্বকানন্দ তীর্থ মহারাজ জানিয়েছেন, "প্রতিযোগিতায় কোনোভাবেই হালাল করা মাংস বা এই জাতীয় কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। আমরাই সমস্ত কিছু সরবরাহ করব। এই প্রতিযোগিতা হল 'ঝটকা বিরিয়ানি' বানানোর প্রতিযোগিতা। তবে বিরিয়ানি শব্দটি কিন্তু কোথাও থাকবে না। এই উৎসবের নাম পলান্ন উৎসব।" 

উৎসবের চেয়ারম্যান সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন পুলিশকর্তা দেবাশিস ধর বলেন, "খোলাখুলিভাবেই বলছি এটা হালাল বিরোধী একটি পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে আমাদের আসল সংস্কৃতি তুলে ধরতে চাইছি। কারণ, বিভিন্ন বিদেশি শক্তির আক্রমণে আমাদের খাদ্যাভ্যাস বদলে গিয়েছে। বদলে গিয়েছে আমাদের আসল সংস্কৃতি। আমাদের উদ্দেশ্য আমাদের আসল সংস্কৃতি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।" 

রাজ্যের প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে এই উৎসব হবে বলে এদিন জানানো হয়েছে। তিনদিন ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে একদিন বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজনও থাকবে বলে এই উৎসবের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। স্থানীয় স্তরে যে প্রতিযোগিতা হবে সেখানেও পুরষ্কারের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। 

উৎসবের জয়েন্ট চেয়ারম্যান কোচবিহারের বিএলইটিটিসি'র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জ্যোতিষ্ক রঞ্জন সরকার জানান, "আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। খাদ্যাভ্যাসের নামে আমাদের অন্যদিকে প্ররোচিত করার চেষ্টা হয়েছিল। এটা আমাদের একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস।" ছিলেন উৎসবের উপদেষ্টা অরিন্দম রায়।