ভারতে সাপের কামড়ে মৃত্যুর কথা উঠলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে রাজগোখরো বা সাধারণ গোখরোর নাম। কিন্তু পরিসংখ্যান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।
2
14
ভারতে বিষধর সাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় রাসেলস ভাইপার, যা বাংলায় 'চন্দ্রবোড়া' বা 'উলুবোড়া' নামে পরিচিত। বর্ষার মরশুমে ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে এই সাপের উপদ্রব এবং কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়।
3
14
কেন রাসেলস ভাইপার এত বেশি মারাত্মক? ভারতের "বিগ ফোর" বিষধর সাপের মধ্যে রাসেলস ভাইপার সবচেয়ে আক্রমণাত্মক। এই সাপটির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য এটিকে গোখরোর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক করে তোলে।
4
14
আক্রমণাত্মক স্বভাব ও দ্রুততা: গোখরো বা শাঁখামুটি সাপ আক্রমণ করার আগে সাধারণত সতর্কবার্তা দেয় বা ফণা তোলে। কিন্তু রাসেলস ভাইপার বিপদ অনুভব করলে কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চড়াও হতে পারে।
5
14
বিশাল বিষের থলি: রাসেলস ভাইপারের দংশন ক্ষমতা এবং এক কামড়ে শরীর থেকে নিঃসৃত বিষের পরিমাণ অনেক বেশি। এর বিষ মূলত 'হিমোটক্সিক' যা সরাসরি রক্তকণিকা ও রক্তনালীকে আক্রমণ করে।
6
14
শব্দ সৃষ্টি করে ভয় দেখান: আক্রান্ত বোধ করলে এটি শরীরের স্কেল বা আঁশ ঘষে এবং তীব্র নিঃশ্বাস ছেড়ে প্রেসার কুকারের সিটির মতো বিকট শব্দ তৈরি করে।
7
14
রাসেলস ভাইপারের বিষের প্রভাব ও শারীরিক ক্ষতি গোখরোর বিষ নিউরোটক্সিক বা স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দেয়, যার ফলে দ্রুত শ্বাসকষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে রাসেলস ভাইপারের হিমোটক্সিক বিষ শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
8
14
কামড়ের পর রোগীর কামড়ের স্থানে তীব্র যন্ত্রণা, মারাত্মক ফোলাভাব এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে কিডনি বিকল হওয়া, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়া এবং গ্যাংগ্রিন বা পচন ধরার মতো জটিলতা দেখা দেয়।
9
14
যেসব বিষয় মনে রাখা ও করা জরুরি রাসেলস ভাইপারের কামড় থেকে বাঁচতে এবং কামড় পরবর্তী সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন।
10
14
ঝোপঝাড় ও রাতে চলাচলে সতর্কতা: রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা এবং কৃষিকাজে জমিতে যাওয়ার সময় বুট জুতো বা মোটা পোশাক পরা উচিত।
11
14
রোগীকে শান্ত রাখা: সাপে কাটলে রোগীকে ভয় না পাইয়ে শান্ত রাখতে হবে। আতঙ্কিত হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
12
14
ওঝা বা ঝাঁড়ফুঁক নয়: কোনো রকম ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা কামড়ের স্থান কাটার চেষ্টা না করে দ্রুত রোগীকে সরকারি হাসপাতাল বা পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টি-ভেনম সরবরাহ থাকা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
13
14
বাঁধন শক্ত না করা: কামড়ের জায়গায় রশি বা শক্ত ফিতা দিয়ে শক্ত করে বাঁধন দেওয়া উচিত নয়, এতে ওই অংশের টিস্যু চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
14
14
রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে সঠিক সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তাই পারে এই সংক্রান্ত মৃত্যু অনেকটাই কমিয়ে আনতে। তাই বর্ষাকালে বেশি সতর্ক থাকতেই হবে।