বেসরকারি খাতে কর্মরত বেতনভোগী কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল সংস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল 'এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিংকড ইন্স্যুরেন্স' স্কিম। এটি কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল এবং কর্মচারী পেনশন স্কিমের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
2
12
কোনও ইপিএফ গ্রাহকের চাকরিজীবন চলাকালীন দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবার বা মনোনীত ব্যক্তি এই প্রকল্পের আওতায় এককালীন অর্থ সহায়তা পান। এই সুবিধার জন্য কর্মচারীকে আলাদা কোনও প্রিমিয়াম দিতে হয় না।
3
12
কীভাবে ইডিএলআই স্কিমে নাম নথিভুক্ত হয়? যেসব সংস্থায় ২০ জনের বেশি কর্মী ইপিএফের আওতায় রয়েছেন, সেখানকার কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কোনও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হন। চাকরি পরিবর্তন করলেও ইপিএফ ও ইপিএসের মতো এই অ্যাকাউন্টটিও নতুন সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়।
4
12
এই তহবিলে কর্মীর মূল বেতনের ০.৫% নিয়োগকর্তা বা সংস্থা প্রদান করে। অন্য কোনও গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স না থাকলে এই অবদানের সীমা মাসে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই অবদানের ওপর ইপিএফের মতোই আয়কর ছাড়ের সুবিধাও মেলে।
5
12
বীমার টাকার পরিমাণ ও যোগ্যতা মৃত্যুর পূর্ববর্তী ১২ মাস টানা চাকরিতে নিযুক্ত থাকলে মনোনীত ব্যক্তি সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সহায়তা পেতে পারেন। এই এককালীন টাকার ওপর কোনও আয়কর দিতে হয় না।
6
12
এমনকি কোনও কর্মী যদি টানা এক বছরের চাকরি পূরণ করার আগেই মারা যান, তাহলেও তাঁর পরিবার অন্তত ৫০,০০০ টাকা পাবেন। চুক্তিবদ্ধ বা সাময়িক কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে—মৃত্যুর আগের ১২ মাসে একাধিক সংস্থা বদল করলেও এই সুবিধা বহাল থাকে।
7
12
বীমার টাকা সরাসরি মনোনীত ব্যক্তি বা আইনি ওয়ারিশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তাই ইপিএফ পোর্টালে নমিনেশন আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি।
8
12
পাওনা অর্থ কীভাবে হিসাব করা হয়? ইডিএলআই সুবিধার মোট অঙ্ক এই নিয়মে হিসাব করা হয়। গত ১২ মাসের গড় মাসিক বেতন (সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) × ৩০ দিন = ৪,৫০,০০০ টাকা।
9
12
এর সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত বোনাস = ২,৫০,০০০ টাকা। অর্থাৎ মোট সর্বোচ্চ পাওনা = ৭,০০,০০০ টাকা (৪,৫০,০০০ + ২,৫০,০০০)।
10
12
দাবি বা ক্লেইম জানানোর সহজ উপায় ১. ক্লেইম করার জন্য দাবিদারকে ফর্ম ৫১এফ পূরণ করে নিয়োগকর্তার স্বাক্ষর ও সত্যায়নসহ জমা দিতে হবে। ২. নিয়োগকর্তা না থাকলে বা স্বাক্ষর পাওয়া না গেলে কোনও ব্যাঙ্ক ম্যানেজার, গেজেটেড অফিসার, স্থানীয় এমপি/এমএলএ, পোস্টমাস্টার বা পঞ্চায়েত/পৌরসভার প্রধানের থেকে ফর্মটি সত্যায়িত করিয়ে নেওয়া যায়।
11
12
৩. পূরণ করা ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথি নিকটস্থ আঞ্চলিক ইপিএফ কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ৪. ইপিএফ, ইপিএস এবং ইডিএলআই—তিনটি স্কিমেরই সুবিধা একসাথে পাওয়ার জন্য ফর্ম ২০, ফর্ম ১০সি,১০ডি, ও ফর্ম ৫ আইএফ একসঙ্গে জমা দেওয়া যায়।
12
12
আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইপিএফ কমিশনারকে দাবি নিষ্পত্তি করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হলে দাবিদার বার্ষিক ১২% হারে সুদ পাওয়ার অধিকারী হন।