জেলের জমিতেই রূপকথার জন্ম! প্রাক্তনীর তালিকায় সুন্দর পিচাই থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ৭৫ বছরের গৌরবময় যাত্রা আইআইটি খড়গপুরের
১৮ আগস্ট ২০২৬ ২১ : ৪৯
- 1
- 10
হিজলি বন্দিশালা। পরাধীন ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তঝরা ইতিহাসের যা ছিল নীরব সাক্ষী। তা-ই রূপান্তরিত হল জ্ঞান ও প্রযুক্তির তীর্থক্ষেত্রে। ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট অর্থাৎ আজকের দিনেই জন্ম নেয় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) খড়্গপুর। স্বাধীন ভারতে হিজলির সেই ঐতিহাসিক মাটিতে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর হাত ধরে গড়ে ওঠে এই বিশ্ববন্দিত প্রতিষ্ঠান। আজ তারই ৭৫ বছর পূর্তি।
- 2
- 10
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবির, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় এবং নটরাজন সরকার বা নলিনী রঞ্জন সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ কমিটি আইআইটি খড়গপুর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। স্বাধীন ভারতে প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে সেই সময়ে নেহেরু বলেছিলেন, "আজকের এই হিজলি বন্দিশালার স্থানে দাঁড়িয়েছে স্বাধীন ভারতের এক অনন্য স্মৃতিসৌধ।"
- 3
- 10
ভবিষ্যতে দেশ গড়ার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সেদিনের সে স্বপ্ন বৃথা যায়নি। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠিতে প্রতি বছরই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে স্থান দখল করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নামী প্রাক্তনীরা ছড়িয়ে রয়েছেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
- 4
- 10
শুধু র্যাঙ্কিং বা সাফল্যের নিরিখে বিচার নয়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য নজির রেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রীর 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে এবং বিদেশে 'মেধা পাচার' রুখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে আইআইটি খড়গপুর। কেবল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তঃবিভাগীয় পড়াশোনা এবং গবেষণায় জোর দিচ্ছেন এর মুখ্যরা। জাতীয় শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য রূপায়নে কলেজস্তর থেকেই উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলার একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের সৃজনশীলতায় একইভাবে মননশীল প্রতিষ্ঠান।
- 5
- 10
দেশের হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইআইটি খড়গপুরও পেয়েছে 'ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল ইম্পর্টেন্স' বা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের তকমা। আজ প্ল্যাটিনাম জুবিলি-র এই ঐতিহাসিক দিবসে তাই একনজরে দেখে নেওয়া যাক, প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল সমস্ত প্রাক্তনীদের তালিকা। যাঁরা রাজনীতি, প্রশাসন, প্রযুক্তি, ব্যবসা থেকে শিল্পকলা-প্রত্যেকেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।
- 6
- 10
১। সুন্দর পিচাই- ১৯৭২ সালে মাদ্রাজে জন্ম। নাম পিচাই সুন্দরাজন। বর্তমানে যে সুন্দর পিচাই নামে বিশ্ববিখ্যাত। প্রযুক্তি জগতে আলোড়ন ফেলে তিনিই এখন টেকনোলজি জায়ান্ট অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। স্কুল পেরিয়ে প্রথমে পা আইআইটি খড়্গপুরে। পড়লেন মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে এর পর পারি দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস. এবং পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর ২০১৫ সালে গুগলের তৎকালীন প্রধান ল্যারি পেজের হাত ধরে প্রথম 'প্রোডাক্ট চিফ'। পরে সিইও পদে উন্নীত হন। ২০১৭ সালে তিনি অ্যালফাবেটের পরিচালনা পর্ষদেও অন্তর্ভুক্ত হন।
- 7
- 10
২। অরবিন্দ কেজরিওয়াল- দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আপ-এর নেতা হিসাবে জনপ্রিয় মুখ অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ভারতীয় রাজস্ব সেবা বা আইআরএস-এর প্রাক্তন এই আধিকারিকের শুরুটাও এই প্রতিষ্ঠান থেকে। ১৯৮৫ সালে আইআইটি জেইই-তে সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ছিল ৫৬৩। তখনই বেছে নেন খড়গপুরকে। ভর্তি হন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। পরবর্তীকালে ১৯৯৫ সালে আয়কর বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে আইআরএস-এ যোগ দেন। তবে এর পর ফের কেরিয়ারের গতিপথ বদলান। নামেন রাজনীতির ময়দানে। ২০১২-১৩ সালে গঠন করেন আম-আদমি পার্টি। ২০১৩-র ডিসেম্বরেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন। যদিও এ বছরই রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন কেজরিওয়াল।
- 8
- 10
৩। দুভ্বুরি সুব্বারাও- একইসঙ্গে অর্থনীতিবিদ, ব্যাঙ্কার এবং অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক দুভ্বুরি সুব্বারাও। মাথায় একের পর খ্যাতির শিরোপা। ছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ২২তম গভর্নরও। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়াদ ফুরোয় ২০১৩ সালে। তাঁর পথচলার শুরুতেও জড়িয়ে সেই আইআইটি খড়্গপুর। সেখান থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করে অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাডারে যোগ দেন। যদিও চাকরিতে ঢোকার আগে তাঁর স্নাতকোত্তর অর্জন আইআইটি কানপুর থেকে। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। একই বিষয়ে পিএইচডি অর্জন অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- 9
- 10
৪। বিনোদ গুপ্ত- ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং মানবহিতৈষীর পড়াশোনাও আইআইটি খড়্গপুর থেকে। সেখান থেকে তিনি অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে ১৯৬৭ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা-লিনকন থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজনেসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য মন্টেরি ইনস্টিটিউট, ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা এবং আইআইটি খড়্গপুর থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
- 10
- 10
















