আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর ২০২৬ প্রক্রিয়ায় 'খামখেয়ালিভাবে' প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
এই মামলায় অধীর চৌধুরীর পক্ষে বলা হয়েছে, শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই প্রায় ৫ লক্ষ ভোটারের নাম সামান্য বানান ভুল বা ঠিকানার অমিলের মতো সাধারণ ত্রুটির অজুহাতে কোনও শুনানির সুযোগ না দিয়েই কেটে দেওয়া হয়েছে। আদালতের কাছে অধীরের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং সংবিধানের বিরোধী।
পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ ও ট্রাইব্যুনালের কাজের ধীর গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন,বর্তমানে মুর্শিদাবাদে মাত্র ২টি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল চালু রয়েছে। সেখানে দিনে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি কেসের শুনানি হচ্ছে। এই গতিতে চললে শুধু জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি করতেই ৪ থেকে ৫ বছর লেগে যাবে।
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বহু গরিব ও প্রান্তিক মানুষ রেশন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাঁদের জীবন-জীবিকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতে করা জনস্বার্থে মামলায় আদালতের কাছে তিনি চার দফা দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবিলম্বে প্রতিটি ব্লকে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মামলার বিপুল চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন,কজলিস্ট, শুনানির তারিখ ও রায়ের কপি দেখার জন্য একটি কেন্দ্রীয় স্বচ্ছ ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি করতে হবে, যাতে আবেদনকারী ঘরে বসেই মামলার হাল জানতে পারেন। তাছাড়া আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনও নাগরিকের সরকারি সুযোগ-সুবিধা, ভর্তুকি বা অনুদান বন্ধ না করার দাবিও জানান তিনি। ২৭ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল তা বলাই বাহুল্য।
&t=1s














