আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছিন্নভিন্ন তৃণমূল। নেত্রীর ইচ্ছেকে আমল না দিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক গোষ্ঠীর অন্যতম ঋজতব্রত ব্যানার্জি। এই গোষ্ঠীতে আরও বেশ কয়েকজন দলীয় বিধায়ক নাম লেকাতে পারেন বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন তিনি। দিশাহারা তৃণমূল কংগ্রেসের নীচু তলার কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসে আসার আহ্বান জানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট কথা, "সাধারণ যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রয়েছেন, ভোট করেছেন, মার খেয়েছেন, এখনও তৃণমূলকে ভালোবাসেন তাঁদের বলছি আপনাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা আছে।” 

কী বলেছেন অধীর চৌধুরী?
তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। এতেই পৌষমাসের ইঙ্গিত পাচ্ছেন পোড়খাওয়া রাজনীতিক অধীর চৌধুরী। তাঁর পাখির চোখ, সুযোগ কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের সংগঠনকে মজবুত করা। এদিন মঙ্গলবার বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে বহরমপুরেরই প্রাক্তন সাংসদ বলেন, "সাধারণ যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রয়েছেন, ভোট করেছেন, মার খেয়েছেন, এমপি এমএলএ বানিয়েছিলেন, এখনও তৃণমূলকে ভালবাসেন তাঁদের বলছি আপনাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা আছে। আপনারা আসুন, আলোচনা করে আমরা আগামী দিনে বিজেপি এবং তথাকথিক তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলি। বাংলায় বাকি বিরোধী দলেরা একজোটে একটা প্ল্য়াটফর্ম তৈরি করে এর মোকাবিলা করা খুবই জরুরি। নাহলে এই বাংলায় রাজনীতি বলে আর কিছু থাকবে না।"

অধীর চৌধুরী এতদিন ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে দল জোর করে ভয় দেখিয়ে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলেছেন। এবার সেই তৃণমূল কংগ্রেসই ভেঙে টুকরো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নীচু তলার তৃণমূল কর্মীদের প্রতি তাঁর আহ্বান বেশ তাৎপর্যবাহী।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই বিদ্রোহী। বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত ব্যানার্জি। তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড় পরিস্থিতি। অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলের প্রতীক মমতা ব্যানার্জির হাতছাড়া হয় কিনা তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এসেবর মধ্যেই এদিন তৃণমূলের সংগাঠনিক পদ ও কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, ট্রেড ইউনিয়ন, তৃণমূল যুব কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেসের মতো সব শাখা সংগঠনেক কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।