রিয়া পাত্র
মমতা-অভিষেক দিল্লিতে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের পরেও, দফায় দফায় বৈঠক করেছেন, কংগ্রেসের হাই কম্যান্ডের সঙ্গে। মঙ্গলে সাক্ষাৎ করেন মমতা-সনিয়া। বুধে ম্যারাথন বৈঠক রাহুল-অভিষেকের। এই পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে জোর জল্পনা, তৃণমূলের বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে, কংগ্রেসের হাত ধরতে পারেন মমতা?
তথ্যের নিশ্চয়তা না মিললেও, সনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পরে জল্পনা বেড়েছে। কী বলছেন আব্দুল মান্নান? প্রবীণ রাজনীতিবিদ দেখেছেন, কীভাবে মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেস ভেঙে গড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। দেখছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে ছারখার হওয়া অবস্থা।
দিল্লির বৈঠক নিয়ে তাঁর মত, 'দেখুন দলের হাই কম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেবেন যা নেওয়ার। বৈঠকে তো বসতেই পারেন। তাছাড়া, একজন মহিলা গিয়েছেন, একজনের কাছে। জড়িয়ে ধরছেন। তাঁকে কি সরিয়ে দেবেন?'
কিন্তু মমতা ব্যানার্জি যদি নিজের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাত ধরতে চান হাতেরই? কী প্রতিক্রিয়া হবে মান্নানের? যদিও তাঁর সাফ বক্তব্য, 'যদির কথা থাক যদিতেই। যদি, অনুমান দিয়ে কিছু বলা যায় না।' সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, 'মমতার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। না নিজের দলের কাছে, না অন্যের দলের কাছে। এই পরিস্থিতিতে যেদিকে থাক, যেদিকেই যাক, আমার একটাই বক্তব্য, ওঁর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই।'
বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল যে নজিরবিহীন ভাঙন এবং বিধায়ক-সাংসদদের দলছাড়ার হিড়িকের মুখে পড়েছে, তাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। সম্প্রতি তিনি মমতাকে তীব্র আক্রমণ করে এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল ছেড়ে চলে যাওয়া বিধায়ক-সাংসদদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে মমতার ঘাসফুল শিবির। কিন্তু মান্নান তা মানতে নারাজ। জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে তুলনা টেনে আবদুল মান্নান বলেছেন, "মহারাষ্ট্রে যা ঘটেছিল, তা ছিল সুবিধাবাদীদের একজোট হওয়া। কিন্তু বাংলায় যা ঘটছে, তা একেবারেই মহারাষ্ট্রের মতো নয়।" নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ঠিক যেভাবে তৎকালীন অবিভক্ত কংগ্রেসকে ভেঙে মমতা তাঁর নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন, আজ ঠিক সেই একই ঘটনার মুখোমুখি তিনি নিজে। এমনটাই মত মান্নানের।















