নেশার কবলে পরে জীবনের অনেকগুলো বছর হারিয়েছেন। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন তিনিই। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় নিজের জীবন নিয়ে কোনও দিন খেলেননি। খোলা খাতার মতোই নিজেকে মেলে ধরেছেন। যাতে তাঁর অভিজ্ঞতা অন্যকে পথ দেখায়। ২৩ জানুয়ারি তাঁর দ্বিতীয় জন্মদিন। এদিন তাঁর নেশামুক্তির দিন। ১৬ বছর আগে এই দিনে তাঁর আরও একবার জন্ম হয়েছিল। সেই দিন স্মরণ করে অভিনেতা সামাজিক পাতায় মুখর, ‘আজ ২৩শে জানুয়ারি। আজ আমার জন্মদিন। এই জন্মদিনটাই আমার সবচেয়ে কাছের। কেন? কারণ আজকে আমার নেশামুক্তির ১৬ বছর। ২৯ ডিসেম্বর তো বায়োলজিক্যাল বার্থডে। কিন্ত আজকের দিনটা আমার কাছে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কুলীন ব্রাহ্মণ ‘দ্বিজ’। হিন্দু শাস্ত্রমতে, মাতৃগর্ভের পরে পৈতের সময় দ্বিতীয়বার জন্ম হয় এই বিশেষ সম্প্রদায়ের। পদবি বলছে, অনিন্দ্যও সেই সম্প্রদায়ের। কিন্তু তিনি ‘দ্বিজ’ জীবনের অন্ধকার পথে পেরিয়ে আলোর পথে ফিরে। তাঁর লেখায়, ‘আমার কাছে এখনও জলের মতো স্পষ্ট ২০০৮ সালের আজকের এই দিন। আর দেখতে পাই বলেই হয়তো আজকে এটা লিখতে পারছি। ব্যাঙ্কসাল কোর্টে হাজিরা দিয়ে আমাকে রিহ্যাবে ফিরতেই হতো। ৯টার বনগাঁ লোকাল আর আমাকে যেতে হত হাবড়া। সাথে ছিল শেষবারের মতন নেশা করবো বলে একটু ব্রাউন সুগার, পাতি বাংলায় কয়েকটা পাতা আর একটা সিরিঞ্জ, একটু তুলো একটা চামচ। হাবড়া স্টেশনে নেমে একটু এগোলেই সেই রিহ্যাব যেখান থেকে আমার ভালো থাকার লড়াই শুরু হয়েছিল।’
অভিনেতা যেদিন ছাড়া পেতেন সেদিনই তাঁর সমস্যা বাড়ত। একে বলা হয়, ‘ক্রনিক রিলাপসি’। ৬-৭ বছর ধরে অনবরত ঘুরতে থাকা একটা বৃত্ত। হয় বাইরে নেশা করছেন নয় তালাচাবির ভিতরে ভাল আছেন। তালাচাবির বাইরে বেরোলেই আবার নেশা। অনিন্দ্য না নিজেকে বিশ্বাস করতে পারতেন না তাঁকে কেউ বিশ্বাস করতে পারত, তিনি সুস্থ হবেন। বাড়ির সব কিছুই মোটামুটি ততদিনে প্রায় শেষ। সে মায়ের সোনার গয়না হোক বা বাবার সঞ্চয়। এমনকি, আশপাশ থেকে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, কাঁসার জিনিসও তাঁর কাছে সোনার মতোই দামি। যে কোনও গাড়ির লক তিনি তিন-চার মিনিটে খুলে ফেলতে শিখে গিয়েছিলেন। একটা নোকিয়ার মোবাইল মানে ২-৩ হাজার টাকা। এরকমই একটা সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এভাবে চলতে থাকলে ২৮ বছর অবধিও বাঁচবেন না। সেই ভয় আরও বেড়েছিল চার সঙ্গীর পরপর মৃত্যু দেখে। এই উপলব্ধিই তাঁকে জীবনপথে ফিরিয়েছে।সেই
অনিন্দ্য সুস্থ হয়েছেন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছেছেন। এখন তাঁর অবস্থান কেমন?
অভিনেতার লেখনি অনুযায়ী, ‘মা চলে যাওয়ার আগে আমার নেশামুক্ত দেখে গিয়েছে। কিন্ত বাবা চলে যাওয়ার আগে আমার ঘুরে দাঁড়ানো প্রত্যক্ষ করে গিয়েছে। গর্ব করে সবাইকে বলত, আমি অনিন্দ্যর বাবা। বোনের ও গর্ব আমি। আর কি চাই?’
কুলীন ব্রাহ্মণ ‘দ্বিজ’। হিন্দু শাস্ত্রমতে, মাতৃগর্ভের পরে পৈতের সময় দ্বিতীয়বার জন্ম হয় এই বিশেষ সম্প্রদায়ের। পদবি বলছে, অনিন্দ্যও সেই সম্প্রদায়ের। কিন্তু তিনি ‘দ্বিজ’ জীবনের অন্ধকার পথে পেরিয়ে আলোর পথে ফিরে। তাঁর লেখায়, ‘আমার কাছে এখনও জলের মতো স্পষ্ট ২০০৮ সালের আজকের এই দিন। আর দেখতে পাই বলেই হয়তো আজকে এটা লিখতে পারছি। ব্যাঙ্কসাল কোর্টে হাজিরা দিয়ে আমাকে রিহ্যাবে ফিরতেই হতো। ৯টার বনগাঁ লোকাল আর আমাকে যেতে হত হাবড়া। সাথে ছিল শেষবারের মতন নেশা করবো বলে একটু ব্রাউন সুগার, পাতি বাংলায় কয়েকটা পাতা আর একটা সিরিঞ্জ, একটু তুলো একটা চামচ। হাবড়া স্টেশনে নেমে একটু এগোলেই সেই রিহ্যাব যেখান থেকে আমার ভালো থাকার লড়াই শুরু হয়েছিল।’
অভিনেতা যেদিন ছাড়া পেতেন সেদিনই তাঁর সমস্যা বাড়ত। একে বলা হয়, ‘ক্রনিক রিলাপসি’। ৬-৭ বছর ধরে অনবরত ঘুরতে থাকা একটা বৃত্ত। হয় বাইরে নেশা করছেন নয় তালাচাবির ভিতরে ভাল আছেন। তালাচাবির বাইরে বেরোলেই আবার নেশা। অনিন্দ্য না নিজেকে বিশ্বাস করতে পারতেন না তাঁকে কেউ বিশ্বাস করতে পারত, তিনি সুস্থ হবেন। বাড়ির সব কিছুই মোটামুটি ততদিনে প্রায় শেষ। সে মায়ের সোনার গয়না হোক বা বাবার সঞ্চয়। এমনকি, আশপাশ থেকে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, কাঁসার জিনিসও তাঁর কাছে সোনার মতোই দামি। যে কোনও গাড়ির লক তিনি তিন-চার মিনিটে খুলে ফেলতে শিখে গিয়েছিলেন। একটা নোকিয়ার মোবাইল মানে ২-৩ হাজার টাকা। এরকমই একটা সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এভাবে চলতে থাকলে ২৮ বছর অবধিও বাঁচবেন না। সেই ভয় আরও বেড়েছিল চার সঙ্গীর পরপর মৃত্যু দেখে। এই উপলব্ধিই তাঁকে জীবনপথে ফিরিয়েছে।সেই
অনিন্দ্য সুস্থ হয়েছেন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছেছেন। এখন তাঁর অবস্থান কেমন?
অভিনেতার লেখনি অনুযায়ী, ‘মা চলে যাওয়ার আগে আমার নেশামুক্ত দেখে গিয়েছে। কিন্ত বাবা চলে যাওয়ার আগে আমার ঘুরে দাঁড়ানো প্রত্যক্ষ করে গিয়েছে। গর্ব করে সবাইকে বলত, আমি অনিন্দ্যর বাবা। বোনের ও গর্ব আমি। আর কি চাই?’
















