অস্কারের দৌড়ে ভারতের অফিশিয়াল এন্ট্রি 'হোমবাউণ্ড' মুক্তির পর থেকেই দর্শকের নজর কেড়েছে। নীরজ ঘেওয়ান পরিচালিত এই ছবির অনুপ্রেরণা দুই কিশোর—অমৃত ও সাইয়ুবের বাস্তব কাহিনি। লকডাউনের চরম সময়ে, দারিদ্র আর বিপদকে উপেক্ষা করে তারা পায়ে হেঁটে নিজের ঘরে ফেরার লড়াইয়ে নেমেছিল। সেই মানবিক গল্পই রূপ পেয়েছে সিনেমার পর্দায়।
তবে সম্প্রতি বড়সড় বিতর্কে জড়াল ছবিটি। এক জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অমৃতের পরিবারকে নির্মাতাদের তরফে নাকি মাত্র ১০ হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হয়েছে! অভিযোগ, ছবির দল এরপর আর পরিবারের সঙ্গে সামান্য যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেনি। এ খবর ছড়াতেই দর্শকের একাংশে বিপুল ক্ষোভ ছড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন 'হোমবাউণ্ড' ছবির পরিচালক নীরজ ঘেওয়ান। সোশ্যাল মিডিয়ায় (এক্স-এ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা তিনি বহু বছর আগে অমৃতের বাবা রামচরণকে ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছিলেন। সেটি ছিল কেবলই এক “পার্টিং জেশ্চার”—অর্থাৎ সাক্ষাৎ শেষে দেওয়া এক ছোট্ট উপহার, কোনওভাবেই আসল পারিশ্রমিক নয়।

নীরজ ঘেওয়ানের বক্তব্য হল— “ বেশ কিছু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে হোমবাউণ্ড–এর অনুপ্রেরণা যাঁদের জীবন থেকে এসেছে, তাঁদের পরিবার নাকি মাত্র ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এটা একেবারেই সত্যি নয়! আমি প্রথমবার যখন ছবি নিয়ে গবেষণার করার সময়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করি, তখন ব্যক্তিগতভাবে রামচরণজিকে ১০ হাজার টাকা দিই। এটা কখনওই পুরো পারিশ্রমিক নয়। ওঁদের পরিবারের অবদান আমাদের কাছে অমূল্য। তাঁদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই না, কারণ তাতে অমৃত ও সাইয়ুবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অসম্মানিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, পরিবারকে যথাযথ সম্মান ও সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেদের খুশি প্রকাশ করেছেন বলেও নীরজ দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত, একদিকে এই ছবিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করছে, অন্যদিকে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এই অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—বাস্তব জীবনের নায়কদের গল্প যখন বড়পর্দায় উঠে আসে, তখন সেই 'নায়ক'দের অবদানকে আদৌ যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে তো ছবি নির্মাতাদের তরফে?
















