বলিউড তারকা শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাডুকোনের পাশাপাশি বিখ্যাত এক গাড়ি নির্মাণ সংস্থার ছ’জন শীর্ষকর্তার নাম উঠে এসেছে রাজস্থানের ভরতপুরে দায়ের হওয়া এক এফআইআরে। অভিযোগ, তাঁরা এমন এক গাড়ির প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার নির্মাণগত ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মামলা দায়ের করেছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি অভিযোগ করেছেন যে, তিনি ২০২২ সালে একটি ওই কোম্পানির একটি গাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই গাড়িটিতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয় এবং একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান করা হয়নি।
এই ঘটনাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য তারকারাও দায়ী হবেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভরতপুরের বাসিন্দা কীর্তি সিং ২০২২ সালের জুন মাসে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৫৩ টাকায় হরিয়ানার সোনিপতের কুণ্ডলিতে অবস্থিত মালবা অটো সেলস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সেই কোম্পানির গাড়িটি ক্রয় করেন। তাঁর অভিযোগ, গাড়িটি ব্যবহারের ছ’থেকে সাত মাস পর থেকেই বারবার ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। তিনি বলেন, “গাড়ি চালানোর প্রায় ছ’থেকে সাত মাস পর থেকেই টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিতে থাকে। উচ্চ গতিতে চালালে গাড়ি থেকে শব্দ হয় এবং তা কাঁপতে শুরু করে। গাড়ির ইঞ্জিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমেও ত্রুটি দেখা যায়।”
আরও অভিযোগ, যখন তিনি এই সমস্যাগুলি নিয়ে ডিলারশিপের কাছে যান, তখন তাঁকে জানানো হয় যে, এগুলো নাকি ওই মডেলের গাড়ির স্বাভাবিক সমস্যা এবং এগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। কীর্তির দাবি, এটি আসলে উৎপাদনগত ত্রুটি।
এরপর তিনি ভরতপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নং–২-এ একটি ব্যক্তিগত মামলা দায়ের করেন। আদালত পরে মথুরা গেট থানাকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় (প্রতারণা সম্পর্কিত) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ধারায় আনুষ্ঠানিক মামলা নথিভুক্ত করতে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
শাহরুখ খান ১৯৯৮ সাল থেকে এই গাড়ির কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংস্থাটির অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। দীপিকা পাড়ুকোন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে যোগ দেন। গত বছর দু’জনকে একসঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে এফআইআর নথিভুক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশেষ করে কারণ এটি সরাসরি তারকা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলছে—যা নিয়ে ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রচারকদের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য দায়ী করেছে।
এখনও পর্যন্ত শাহরুখ খান বা দীপিকা পাড়ুকোন—কেউই প্রকাশ্যে এই অভিযোগ বা তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
















