মিল্টন সেন,হুগলি : অন্ধের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার অদ্ভুত অঙ্গীকার। ক্রমাগত সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রীরামপুরের সীদাম সাহা। আর গত ৪২ বছরের সেই চেষ্টায় অন্ধত্ব ঘুচেছে, দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন কমপক্ষে চার হাজার দৃষ্টিহীন মানুষ। তাই এটা সীদাম বাবুর দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলতে গেলে নেশায় পরিনত হয়েছে। তাই প্রতিদিনই সকাল হলেই তিনি বেরিয়ে পড়েন। ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন হাসপাতালে। চেষ্টা করেন মানুষজনকে মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ করার। পেশায় তিনি আইসক্রিম ব্যাবসায়ী হলেও ব্যবসার থেকে তার কাছে চক্ষু সংগ্রহ করার প্রাধান্য অনেক বেশি। তাই সকাল হলেই শুরু হয় তাঁর খোঁজ। খোঁজ নেন কোথাও কেউ মারা গেছেন কিনা। আর খবর পেলেই পৌঁছে যান হাসপাতাল কিংবা মৃতের বাড়ি অথবা শ্মশান সর্বত্রই। সব জায়গাতেই তিনি ছুটে যান মৃতদেহ থেকে চোখ সংগ্রহ করার কাজে। তিনি নিজেই কাছে থাকা একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ছোট্ট একটি অস্ত্র প্রচারের করে মৃতদেহ থেকে সহজেই চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করে ফেলেন। মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করা যায়, না হলে সেই কর্নিয়া আর কোনও কাজে লাগেনা। মাত্র বাইশ বছর বয়স থেকে সীদাম সাহা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মৃতদেহ থেকে চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করেছেন। গত ১২ বছর ধরে তিনি উত্তরপাড়া লুই ব্রেল মেমোরিয়াল ব্লাইন্ড স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। শ্রীরামপুর আই ব্যাঙ্কের সহযোগীতাও রয়েছে তাঁর সঙ্গে। বর্তমানে এই কাজে তিনি তার ছেলে সায়ক সাহাকে পাশে পেয়েছেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ট্রেনিং নিয়ে বাবার এই কাজের অংশীদার হয়ে উঠেছে সায়ক। বর্তমান সময়ে এখনও মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে মানুষের মনে বহু সংকোচ রয়েছে। তবে হুগলি শ্রীরামপুরের সীদাম সাহা ক্রমাগত মরণোত্তর চক্ষুদানের পক্ষে তাঁর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।