আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিঃঝুম গ্রাম। তেমন কেউ থাকে না সেখানে। বেশিরভাগ বাড়ি খালি। ভূতুড়ে পরিবেশ। সেখানে বসবাস করেন ৮০ বছরের এক মহিলা। নাম হীরা দেবী। জায়গাটা উত্তরাখণ্ডে। সেই মহিলার অভিনীত ছবি এবার দেখানো হবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। 

 

 

মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর রয়েছে তালিন ব্ল্যাক নাইটস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এ বার ২৮তম বার, এই চলচ্চিত্র উৎসব উদযাপিত হচ্ছে এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিনে। সেই মঞ্চেই দেখানো হবে হিরাদেবী অভিনীত ছবিটি। সিনেমার নাম পেয়ার। এই ছবিতে অনেকটাই ফুটে উঠেছে তাঁর জীবন কাহিনি। ছবির বিষয়বস্তু ৮০-এর দশকের মর্মান্তিক প্রেমের গল্প। এই ছবি ভারত থেকে একমাত্র দেখানো হচ্ছে। ছবিটি বানিয়েছেন বিনোদ কাপ্রি। ২০১৮ সালে গল্পের চিত্রনাট্য এবং বিষয় লিখেছেন তিনি। ছবির সহযোগী নির্মাতারা সকলে মিলে ছবির লোকেশন খুঁজতে যান ওই গ্রামে। লোকেশন পছন্দ হয়ে যাওয়ায় নির্মাতারা চান বাসিন্দাদের মধ্যে থেকেই কাস্টিং খুঁজতে। মহিলা নায়িকা হিসেবে এর পর তাঁরা গীতাদেবীকে বাছেন।  

 

 

কী ভাবে পেলেন তাঁকে? নির্মাতারা জানাচ্ছেন, জঙ্গল থেকে পশুর খাওয়ার নিয়ে ফিরছিলেন কয়েকজন স্থানীয় মহিলারা। সেই সময়ই দেখা হয়েছিল হীরা দেবীর সঙ্গে। তিনি গান গাইতে গাইতে ফিরছিলেন। সেই দৃশ্য দেখেই তাঁকে ছবির জন্য বাছেন তাঁরা। প্রথমে রাজি হননি গীতা দেবী। তাঁর বক্তব্য ছিল, যেখানে শুটিং হবে সেই স্থানটি তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ছ'কিমি দূরে এবং বাড়িতে একমাত্র পোষ্য মোষ। তিনি খুব বেশি দিন একা রেখে যেতে চাননি। বিধবা মানুষ তিনি। তাই মোষটিকে তিনি ছাড়া দেখার কেউ নেই। 

 

 

সিনেমায় অভিনয়ের পর যখন জানা যায় ছবির প্রিমিয়ারে যেতে হবে। তিনি রাজি হননি। জানা গিয়েছে,তাঁর তিন সন্তান। একমাত্র মেয়ে বিবাহিত, বারানিতে থাকেন। অন্য দিকে, তাঁর দুই ছেলে দিল্লিতে কাজ করেন। পরে বড় ছেলে তাঁকে নিয়ে যেতে চাইলে এবং মেয়ে তাঁর অনুপস্থিতে বাড়ির মোষের দেখভালের ভার নিতে রাজি হওয়ার তিনি তালিন উৎসবে যেতে রাজি হন। অবশেষে গ্রামের এক প্রান্তিক মহিলা মঙ্গলবার বিশ্ব মঞ্চ ভাগ করবেন।