আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি এলেন। তিনি দেখলেন। এবং জয় করে নিলেন। 

ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই নবাগত স্ট্রাইকার ইউসেফ এজেজারি একশোয় একশো। 

যখন গোলের জন্য লাল-হলুদ গ্যালারি ছটফট করছে, কখন আসবে কাঙ্খিত সেই গোল, তখনই এজেজারির বিস্ফোরণ। জোড়া গোল করলেন। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দুশ্চিন্তা দূর করে যেন বলে গেলেন, ''আমি এসে গিয়েছি। তোমরা চিন্তা করো না।''

দিনের শেষে ইস্টবেঙ্গল ৩-০ গোলে হারাল নর্থ ইস্টকে। জোড়া গোল এজেজারির। একটি গোল মিগুয়েলের। 
চলতি মরশুমে দিয়ামান্তাকোসকে ছেড়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল। আনা হয়েছিল মরোক্কান হামিদকে। জাপানি হিরোশিকেও উড়িয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কেউই করতে পারেননি। মাঝপথে তাঁদের ছেড়ে দিতে হয়। 

আইএসএল শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগেই শহর কলকাতায় পা রেখেছেন ইউসেফ এজেজারি। আর প্রথম ম্যাচেই তাঁর ভিনি, ভিডি, ভিসি। 

গোল করতে পারতেন রশিদ। তাঁর বিষাক্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে এল। গোল করতে পারতেন মিগুয়েলও। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা নন্দকুমারও মিগুয়েলের সেন্টার থেকে মাথা ছুঁইয়ে জাল কাঁপাতে পারতেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে প্রথমার্ধের শেষেই ইস্টবেঙ্গল তিন-চার গোলে এগিয়ে যেতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই মিগুয়েল ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিতে পারতেন। 

গোল করার মতো জায়গায় বারবার পৌঁছেও গোলের দরজা খুলতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। হতাশা বাড়ছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের। ঠিক সেই সময়ে বিপিনের ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করলেন এজেজারি। খেলার বয়স তখন ৬৫ মিনিট। গ্যালারিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে গেলেন তিনি। এই গোলের অপেক্ষাতেই তো ছিল লাল-হলুদ বিশ্ব। 

প্রথম গোলের পরেই ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ নন্দকুমারকে তুলে নেন। মাঠে পাঠান এডমুন্ডকে। সঙ্গে সঙ্গেই ফল পায় ইস্টবেঙ্গল। নন্দকুমার আক্রমণে ধার আনতে পারছিলেন না। বরং বেশি বল পায়ে রাখতে গিয়ে খেলার গতি কমিয়ে দিচ্ছিলেন।

এডমুন্ড নর্থইস্ট বক্সে বিপদ তৈরি করে পাস বাড়ালেন এজেজারিকে। নতুন বিদেশি সেই সুযোগ নষ্ট করেননি। বাঁ পায়ের টোকায় নর্থইস্টের জালে বল জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। খেলার একেবারে শেষ লগ্নে মিগুয়েল গোল করে ৩-০ করেন।

এরকম দুদ্দাড়িয়ে শুরু বহুদিন করেনি ইস্টবেঙ্গল। অস্কার ব্রিগেড এবারের আইএসএলের শুরুটা করল বিস্ফোরণ ঘটিয়েই। এজেজারির পাশাপাশি মিগুয়েলও গোল পেয়ে যাওয়ায় এখন স্বপ্ন দেখতেই পারে লাল-হলুদ বিশ্ব।