আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ হয়। টুর্নামেন্টের বয়স ৯৬ বছর। এরমধ্যে বহু সরকার এসেছে এবং গিয়েছে। কিন্তু এমন অভিনব উদ্যোগ এই প্রথম। দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলায় জেলায় ফুটবল এবং অন্যান্য খেলা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তার প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ফেললেন। যা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে লাইভ দেখানো হবে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এমনই জানান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। 

রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ এবং ক্রীড়া বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজেশ পাণ্ডের দপ্তর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয় সেই চিঠি। সেখানে রাত সাড়ে বারোটা থেকে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল লাইভ সম্প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়, এই আয়োজনের জন্য প্রত্যেক জেলাকে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের পাঠানো চিঠিতে লেখা হয়, 'আপনারা সবাই জানেন, আমাদের রাজ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। আমাদের ফুটবলের ইতিহাস সমৃদ্ধ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষরা যাতে ২০.০৭.২০২৬ রাত সাড়ে বারোটায় ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে পারে, রাজ্য সরকার জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল লাইভ সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এই লাইভ স্ক্রিনিং হবে। এটা করার জন্য সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার। আগে থেকেই এলাকাগুলোতে প্রচার করতে হবে। এর জন্য জেলা প্রতি ১,০০,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।' 

নতুন সরকার দায়িত্বে আসার আড়াই মাসের মধ্যেই বাংলার ফুটবলের প্রসার বাড়াতে এই অভিনব উদ্যোগ নিল। বর্তমানে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলে সেইভাবে কোনও বাঙালি ফুটবলার নেই। সামগ্রিকভাবেই আইএসএলে খেলা ক্লাবগুলোতে বাঙালি ফুটবলারের অকাল। অথচ একটা সময় জেলাগুলো ছিল ফুটবলের আঁতুড়ঘর। সুব্রত ভট্টাচার্য, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, সুভাষ ভৌমিক সবাই জেলা থেকে উঠে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে জেলা থেকে ফুটবলার উঠে আসার তেমন কোনও দৃষ্টান্ত নেই। কোনওরকমে চলে জেলা লিগ। কিন্তু তাতে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরই জেলা ফুটবলে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এবার সেটা বাস্তবে রূপান্তরিত করার পালা। জেলার ছেলেমেয়েদের ফুটবলে আকর্ষণ ফেরাতে প্রথম পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের।