আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলে গেলেন স্যার গ্যারি সোবার্স। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। শুক্রবার বার্বাডোজে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি। ক্রিকেটবিশ্বের বহু বিশেষজ্ঞের মতে, সোবার্স ছিলেন ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের অন্যতম। ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন অসাধারণ। পাশাপাশি বাঁ হাতি অর্থোডক্স স্পিন এবং রিস্ট স্পিন, দুই ধরনের বোলিংয়েই দক্ষতা দেখান। ফিল্ডার হিসেবেও ছিলেন অসামান্য।
মাত্র ১৬ বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক, ২১ বছরেই বিশ্বরেকর্ড। ১৯৫৩ সালে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় স্যার গারফিল্ড সোবার্সের। এর ঠিক পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর আরও একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সোবার্স। এরপরই তাঁকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে ডাকা হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চে জামাইকায় অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ টেস্টে আলফ ভ্যালেন্টাইনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পান তিনি। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই চার উইকেট তুলে নেন সোবার্স। যদিও শেষপর্যন্ত ম্যাচ হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতরান করেন সোবার্স। ৩৬৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ১০ বছর পর নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলতে নেমে গ্ল্যামারগনের বিরুদ্ধে সোয়ানসিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়েন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সোবার্স। গড় ৫৭.৭৮। তাঁর সংগ্রহ ৮০৩২ রান। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। বোলিং গড় ৩৪.০৩। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামগ্রিকভাবে বছরের সেরা পারফর্মারকে দেওয়া আইসিসির সর্বোচ্চ বার্ষিক পুরস্কার 'স্যার গারফিল্ড সোবার্স অ্যাওয়ার্ড' তাঁর সম্মানেই নামাঙ্কিত। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখে, 'একটি মহান ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে, আজ এবং চিরকাল - স্যার গারফিল্ড সোবার্স।'
১৯৩৬ সালে ব্রিজটাউনের সেন্ট মাইকেলে জন্মগ্রহণ করেন সোবার্স। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বাবা থেলমা সোবার্স ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হন। তখন সোবার্সের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। জন্মের সময় তাঁর দুই হাতেই একটি করে বাড়তি আঙুল ছিল। পরে অস্ত্রোপচার করে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাঁর ক্রিকেটজীবনে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। কিংবদন্তির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেটমহলে।
















