আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে চলেছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ২০০৫ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর এতদিনে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী।

২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক হয়েছিল মেসির। তবে সেই অভিষেক সুখকর ছিল না। মাঠে নামার এক মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই ভিলমোস ভানচাককে ফাউল করে লালকার্ড দেখেন। সেই কারণে পরের ম্যাচে, অর্থাৎ ১২ নভেম্বর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হেরে যায়। এরপর থেকে দুই দলের আর কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। ফলে এবারই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন মেসি।

এদিকে সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল আর্জেন্টিনা দলের মূল শক্তি হিসেবে মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একটি সাক্ষাৎকারে টুখেল বলেন, 'মেসি যেভাবে পুরো দলকে নেতৃত্ব দেয়, সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এমন একজনকে নিয়ে মন্তব্য করার মতো ভাষা আমার নেই। ও যে দলে খেলে, সেই দলের নেতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার।' টুখেল আরও বলেন, 'আর্জেন্টিনা বহুদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। দলে একজন ভাল কোচ আছে। দলটা খুবই অভিজ্ঞ। মাঝমাঠে ছোট ছোট পাসে খেলে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে দারুণ দক্ষ। আর মেসির পায়ে বল পড়লেই পুরো দল দৌড়তে শুরু করে।'  

ইংল্যান্ড কোচের মতে, মেসিকে থামাতে হলে তাঁর দলকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইংল্যান্ড নিজেদের খেলার ধরন বদলাবে না। টুখেল বলেন, 'আমাদের অনেক বিষয়েই সতর্ক থাকতে হবে। তবে আমরা নিজস্ব স্টাইলে খেলব। কাজটা কঠিন, সেটা আমরা জানি। তবুও আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।' প্রথম সেমিফাইনালে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটদের হারিয়ে দিয়েছে স্পেন। এবার ইংল্যান্ডও কি পারবে সেই পথে হেঁটে মেসিদের যাত্রাভঙ্গ করতে?