আজকাল ওয়েবডেস্ক: টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা বাড়াতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটে আমূল পরিবর্তন আনল আইসিসি। টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব বাড়াতে ‘গ্রুপ রাউন্ড’-এর আগে একটি ‘সুপার সিরিজ’ রাউন্ড যোগ করা হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, ১৪-দলের পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ চারটি রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বোর্ড এডিনবার্গে তাদের বার্ষিক সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সহযোগী দেশগুলির তিনজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত বোর্ড পুরুষদের ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাট সম্পর্কে চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলি অনুমোদন করেছে। আইসিসি-র উদ্দেশ্য, আরও টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা, প্রতিযোগিতার মান উন্নত করা, উভয় ইভেন্টের কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা।

বোর্ড একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য একটি পরিবর্তিত প্রতিযোগিতা বিন্যাস অনুমোদন করেছে। যেখানে ১৪টি অংশগ্রহণকারী দল থাকবে। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ফাইনাল পর্যন্ত একটি তিন-পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত একটি প্রতিযোগিতার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। 

টুর্নামেন্টের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতাকে আরও জোরদার করার জন্য এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলির গুরুত্ব বেশি। প্রতিযোগিতামূলক তৃতীয় রাউন্ড ‘সুপার ৭’ পর্বে উত্তীর্ণ ৭টি দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য রাউন্ড-রবিন লিগ খেলবে। 

নতুন ফরম্যাটে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ কীভাবে খেলা হবে-

  • প্রথম রাউন্ড: ১৪টি দল ‘রাউন্ড রবিন সুপার-সিরিজ’ খেলবে। 
  • দ্বিতীয় রাউন্ড: ছ’টি দলের দু’টি গ্রুপে খেলা হবে। মোট ৩০টি ম্যাচ। 
  • প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি দল এবং উভয় গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী দল ‘সুপার ৭’-এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে।
  • তৃতীয় রাউন্ড: ‘সুপার ৭’-এ রাউন্ড রবিন লিগ খেলা হবে। মোট ২১টি ম্যাচ।
  • সুপার ৭ থেকে সেরা চারটি দল সেমিফাইনালে যাবে।
  • সেমিফাইনালে দু’টি ম্যাচ। এক বনাম চার এবং দুই বনাম তিন। এরপরে ফাইনাল।

পুরুষদের টি২০ বিশ্বকাপের ফরম্যাটেও বিরাট পরিবর্তন করা হচ্ছে। ২০-দলের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন বিন্যাসের গ্রুপ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অতিরিক্ত দু’টি দল সুপার টেন পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত গুরুত্ব বাড়াতে অতিরিক্ত এলিমিনেটর পর্ব যুক্ত করা হবে। টি২০ বিশ্বকাপে উদীয়মান দলগুলির পারফরম্যান্সে উৎসাহিত হয়ে, আইসিসি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

নতুন ফরম্যাটে টি২০ বিশ্বকাপ কীভাবে খেলা হবে-

  • ২০টি দল গ্রুপ পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ খেলবে।
  • চারটি দলের পাঁচটি গ্রুপের মধ্যে খেলা হবে।
  • প্রতিটি গ্রুপ থেকে দু’টি দল পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হবে।
  • সুপার ১০-এ দু’টি গ্রুপে পাঁচটি করে দল। মোট ২০টি ম্যাচ খেলা হবে।
  • প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল সেমিফাইনালে তাদের স্থান নিশ্চিত করবে।
  • গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দলগুলি এলিমিনেটর পর্বে অপর গ্রুপের তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির বিপক্ষে খেলবে।
  • এলিমিনেটর দু’টি ম্যাচ। সেমিফাইনালে দু’টি ম্যাচ। এরপর ফাইনাল।

২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আইসিসি ২০২৮-এর টি২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ড সরাসরি ইউরোপ আঞ্চলিক ফাইনালে প্রবেশ করবে। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী কিন্তু সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা বাকি দলগুলি সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে যাবে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের বাকি আটটি স্থান আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে পূরণ করা হবে, যেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে দু’টি করে এবং আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একটি করে দল যোগ্যতা অর্জন করবে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে প্রতিটি অঞ্চলের সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী দল এবং সামগ্রিকভাবে পরবর্তী তিনটি সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী দল ন্যূনতম পারফরম্যান্সের মানদণ্ড সাপেক্ষে আইসিসি ২০২৮ সালের টি২০ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করবে।

আইসিসি ডেভেলপমেন্ট ও চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির সুপারিশের পর একটি নতুন মার্কি টুর্নামেন্টের অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। তবে, নভেম্বরের বৈঠকে আইসিসির ফিনান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটির পর্যালোচনার পর এটি বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।