ব্রাজিল - ৩ (ভিনিশিয়াস-২, কুনহা )
স্কটল্যান্ড - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ম্যাচের বয়স ৭৬ মিনিট। এল সেই অপেক্ষারত মুহূর্ত। যার জন্য প্রায় তিন বছর ধরে প্রহর গুনছিল ভক্তরা। ম্যাটিয়াস কুনহার পরিবর্তে নামেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৩ অক্টোবরের পর এই প্রথম ব্রাজিলের জার্সিতে। তার আগেই অবশ্য গ্রুপ শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে যাওয়া নিশ্চিত করেন ভিনিশিয়াস, পাকুয়েতা, ম্যাটিয়াসরা। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ভোরে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের শেষে ব্রাজিল এবং মরক্কোর পয়েন্ট সমান। দুই দলের পয়েন্ট ৭ হলেও, গোল পার্থক্যে একনম্বরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এদিন মিয়ামিতে ফেরে সাম্বা। আবার ভিনি ম্যাজিক। জোড়া গোল রিয়াল মাদ্রিদের তারকার। অন্য গোলটি ম্যাটিয়াস কুনহার। বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল পেলেন ভিনিশিয়াস। তাড়া করছেন মেসি, এমবাপেদের। রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের জন্য হ্যাটট্রিক হাতছাড়া হয়। নয়ত মেসিকে ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন। ম্যাচের নির্যাস, প্রথমার্ধ পুরোপুরি ব্রাজিলের। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা লড়াই করে স্কটিশরা। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির দলকে সমস্যায় ফেলতে পারেনি। যত সময় গড়াচ্ছে, হেক্সা অভিযানের আশা জাগাচ্ছে সেলেকাওরা।
মরক্কোর সঙ্গে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিষেক ম্যাচ দেখে হতাশ হয়েছিল ভক্তরা। তবে চেনা ছন্দ ফিরতে বেশি সময় নেয়নি সেলেকাওরা। দ্বিতীয় ম্যাচেই হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে একই ছন্দ বহাল। তিন বছর পর ব্রাজিলের ডাগআউটে ফেরেন নেইমার জুনিয়র। প্রত্যাশা মতো প্রথম একাদশে ছিলেন না। মিয়ামিতেও ভিনি ম্যাজিক। প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে জোড়া গোলে এগিয়ে দেন। VAR এর ভুলের জন্য হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন।
এদিন হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড়। সৌজন্যে সেই ভিনিশিয়াস জুনিয়র। ম্যাচের ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পুরোপুরি স্কটল্যান্ডের ভুলে। স্কট ম্যাকেন্নার পা থেকে বল ছিনিয়ে ভিনিকে বাড়ান রায়ান। বল ট্যাপ করে, স্কটল্যান্ডের গোলকিপারকে কাটিয়ে গোলে রাখেন। মেসি, রোনাল্ডো, এমবাপেদের পর বিশ্বকাপে রেকর্ড ভিনিশিয়াসেরও। প্রবেশ করেন রোনাল্ডো নাজারিও, রোমারিও এবং জেয়ারজিনহোদের এলিট ক্লাবে। বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তোলার নজির গড়েন। এদিন ৪-৩-৩ ফরমেশনে শুরু করেন কার্লো আনচেলত্তি। শুরুতে ভিনির গতিতে হকচকিয়ে যায় স্কটিশরা। রিয়াল মাদ্রিদের তারকার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খায়। মায়ামির সবুজ গালিচার শৈল্পিক ফুটবল ভিনি, পাকুয়েতাদের।
ম্যাচের ২২ মিনিটে ব্রাজিলের নিশ্চিত গোল বাতিল। সৌজন্যে VAR। আবার স্কটিশদের রক্ষণাত্মক ভুলে ব্যবধান বাড়ান ভিনি। ফের গতি বাড়িয়ে জ্যাক হেনড্রিকে পরাস্ত করে, পেছন থেকে তাঁর পা থেকে বল ছিনিয়ে নেন। গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গুনকে পেরিয়ে বল জালে রাখেন। কিন্তু VAR এর দ্বারস্থ হন রেফারি সিজার রামোস। তাতে দেখা যায়, বল ছিনিয়ে নেওয়ার সবসময় হেনড্রিকের পা স্পর্শ করেন ভিনি। মনিটরে দেখে ব্রাজিলের গোল বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। কোনওভাবেই ফাউল ছিল না। ন্যায্য গোল। প্রযুক্তির সুবিধাও যেমন আছে, তেমন আছে সমস্যাও। এই বিশ্বকাপে VAR সংক্রান্ত অনেকগুলো নতুন নিয়ম হয়েছে। তবে বেড়েছে বিতর্কও। অবশ্য নিজের দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলীয় তারকাকে। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে ২-০ করেন ভিনি।
ম্যাচের ৪৫+৩ মিনিটে ডানদিক থেকে ব্রুনো গুইমারেজের ক্রসে পেছন থেকে এসে দুর্দান্ত হেড। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনি। কিন্ত তাঁর শট বাঁচান স্কটল্যান্ডের গোলকিপার। প্রথমার্ধে সেলেকাওদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি স্কটিশরা। কিন্তু বিরতির পর লড়াইয়ে ফেরে। আনচেলত্তির দলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বেশ কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়েন ব্রাজিলের গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ৩-০। ব্রুনোর পাস থেকে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে গোল করেন ম্যাটিয়াস কুনহা। তারপর নেইমারের সঙ্গে সেলিব্রেশন। এদিনের ম্যাচের সেরা গোল। তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ ১৫ মিনিট নেইমারকে নামান আনচেলত্তি। কিন্তু ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেখে খুব বেশি স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে আবারও উঠছে প্রশ্ন।















