বকেয়া ডিএ-র হিসেব কষা থেকে এবার সরাসরি টাকা মেটানোর পর্যায়ে পৌঁছল রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলা। ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি।
2
12
ফলে ইতিমধ্যেই যাঁদের ই-সার্ভিস বুকের তথ্য যাচাই ও আপলোডের কাজ শেষ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে রাজ্যকে।
3
12
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৪,৭৫৯ জন সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যেই স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রথম ধাপে প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে সময়সীমা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, কমিটির নির্দেশ কার্যকর করতে হাতে থাকছে মাত্র ২৫ দিন।
4
12
এই সময়সীমা বকেয়া ডিএ মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলেই মনে করা হচ্ছে। এতদিন মূলত কর্মীদের সার্ভিস বুক, বেতন সংক্রান্ত তথ্য এবং বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণের প্রক্রিয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
5
12
এবার সেই প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরাসরি পেমেন্ট প্রসেসে যাওয়ার চাপ তৈরি হল রাজ্যের উপর। কেন ই-সার্ভিস বুক এত গুরুত্বপূর্ণ?
6
12
২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন ও চাকরির বিভিন্ন তথ্য প্রয়োজন। রাজ্য জানিয়েছিল, পুরনো সময়ের অনেক কর্মীর পে-রিলেটেড তথ্য সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই কারণে ই-সার্ভিস বুক প্রস্তুত ও আপডেট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
7
12
রাজ্যের অর্থ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬৪,৭৫৯ জনের সার্ভিস বুক স্ক্যান ও আপলোড করা হয়েছে। আরও ১,৩৩,৯৯১ জন কর্মী সার্ভিস বুক আপডেটের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ফলে প্রথম ধাপে যাঁদের তথ্য প্রস্তুত, তাঁদের পাওনা মেটানোর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
8
12
শুধু ২০০৮-২০১৫ নয়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারের উপর প্রায় ১১,৯৮৩ কোটি টাকার আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে বলে মামলায় উঠে এসেছে।
9
12
এত বড় অঙ্কের অর্থ কীভাবে, কোন সময়সীমায় এবং কোন পদ্ধতিতে পরিশোধ করা হবে—তা খতিয়ে দেখতেই সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করে।
10
12
কমিটি রাজ্য সরকার এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।
11
12
এখন নজর মূলত ৩ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার দিকে। কারণ এই সময়সীমা মেনে প্রথম ধাপে ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা যায় কি না, তার উপরই পরবর্তী পর্যায়ের প্রক্রিয়ার গতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
12
12
ফলে ডিএ মামলায় এবার শুধু আইনি লড়াই নয়, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং অর্থ জোগাড়—দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যের সামনে বড় পরীক্ষা।