আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৯৮১ দিন। প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে চোখের জল চেপে রাখতে পারেননি নেইমার। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ে ম্যাচে এসিএল ছিঁড়ে যায় নেইমারের। তারপর থেকে আর দেশের জার্সিতে খেলা হয়নি। বৃহস্পতিবার মিয়ামিতে তাঁকে বেঞ্চে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। ৭৬ মিনিটে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাটিয়াস কুনহার পরিবর্তে নামেন নেইমার। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত সাইডলাইন থেকে দলের সাফল্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেন। প্রত্যেক গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে সেলিব্রেট করেন।
মাঠে নামার পর তাঁর প্রত্যেক টাচে উৎসাহিত ভক্তরা। বারবার স্টেডিয়াম গর্জে ওঠে। ম্যাচে শেষে মাঠ ছাড়ার আগে পরিবারের সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের এই বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নেন। জড়িয়ে ধরেন মাঠে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের। ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ায় জানান, দেশের জার্সিতে ফিরতে পেরে খুশিতে ডগমগ। নেইমার বলেন, 'তিন বছর পরে আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতে পেরে আমি খুবই খুশি। শারীরিকভাবে আমি ভাল জায়গায় আছি। অবশ্যই এতদিন মাঠের বাইরে থাকা খুবই কঠিন।' এদিন শুরু করেননি নেইমার। তেমনই হওয়ার কথা ছিল। আগেই তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি।
দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে উঠে ওয়ার্ম আপ স্প্রিন্ট, স্ট্রেচিং করার সময় ব্রাজিল ফ্যানরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। নেইমার ধ্বনিতে মুখরিত স্টেডিয়াম। সেই আওয়াজ ক্রমশ বাড়তে থাকে। মাঠে নামার সময় শব্দের ডেসিবেল ছিল মাত্রাতিরিক্ত। প্রথমবার নেইমার বল ছুঁতেই চিৎকারে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। গোল করলে কি না হত! নেইমার ফেরায় খুশি ভিনিশিয়াস জুনিয়র। এদিন জোড়া গোল করে রেকর্ডবুকে নাম তোলেন। তবে নিজের এই সাফল্যকে ছাপিয়ে ব্রাজিলের সেরা ফুটবলারের মাঠে ফেরাকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভিনি বলেন, 'আমাদের সবার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের আইডল ফিরে এসেছে। একটা ছেলে যে সবসময় লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছে। চোটের জন্য দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরেছে। আশা করছি ও আমাদের সাহায্য করতে পারবে। এটাই সবচেয়ে বেশি দরকার।' গ্রুপের একনম্বর দল হিসেবে নকআউট পর্বে ব্রাজিল। ভারতীয় সময় সোমবার রাতে রাউন্ড অফ ৩২ এর ম্যাচে নামবে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ এখনও নির্ধারিত হয়নি।















