আর্জেন্টিনা - ৩ (মেসি)

আলজেরিয়া - ০

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক লিওনেল মেসির। ছুঁয়ে ফেললেন মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। দু'জনেরই গোল সংখ্যা ১৬। যৌথভাবে একনম্বরে। আর একটি গোল করলেই বিশ্বমঞ্চে হবেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসি - ৩, আলজেরিয়া - ০। নব্বই মিনিটের শেষে এই স্কোরলাইন লেখা হলে খুব কি ভুল হবে? চার বছর আগে বিশ্বকাপ হাতে তোলার সময়, অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চে সেটাই লিওনেল মেসির শেষ দর্শন। কিন্তু মনে মনে হয়ত হেসেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বলেছিলেন, 'পিকচার আভি বাকি হ্যায়'। ক্যানসাস সিটিতে তারই উদাহরণ রাখলেন মেসি। ভারতীয় সময় বুধবার সকালে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নদের মতো শুরু। দেশের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে বয়স্ক প্লেয়ার হিসেবে গোল করলেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বর্ষীয়ান ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোল। হ্যাটট্রিকও। দেশের জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মেসি মানে জাদু। মেসি মানে আবেগ। এদিন আরও একবার তার সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। চোটের জন্য বিশ্বকাপের আগে দুটো প্রীতি ম্যাচে মাত্র ২০ মিনিট খেলেন। তারকা ফুটবলারের ফিটনেস নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে নেমেই বাজিমাত। ৪০ ছুঁইছুঁই বয়স। কিন্তু এখনও যেকোনও তরুণ তুর্কিকে ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কেন তিনি সেরা, আবারও সেটা প্রমাণ করলেন। 

ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় স্বপ্নের শুরু হতে পারত আর্জেন্টিনার। লওতারো মার্টিনেজের থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল গোলে রাখেন মেসি। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০০তম ম্যাচ উল্লেখযোগ্য করে রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন শুরুতেই। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১২ মিনিট পর মেসি ম্যাজিকের সাক্ষী ক্যানসাস সিটি। মেসির পায়ে বল পড়লেই মনে হয় খেলাটা খুবই সহজ। গোলের ক্ষেত্রেও তেমনই। অনায়াসেই করলেন আরও একটি দুর্দান্ত গোল। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ডি পলের থেকে বল পেয়ে ১৮ গজ বক্সের বাইরে থেকেই বাঁ পায়ের গোলার মতো শটে গোল। টপ নেট ফিনিশ। লুকা জিদানের হাতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। ২০০৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার গোলকিপারের বাবা জিনেদিন জিদানের সঙ্গে খেলেন মেসি। সেটাই আর্জেন্টাইন তারকার প্রথম বিশ্বকাপ ছিল। এদিন যেন বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেললেন ফরাসি তারকার ছেলের বিরুদ্ধে। গ্যালারিতে তার সাক্ষী থাকলেন জিনেদিন জিদান।

বিশ্বকাপের ২৭তম ম্যাচে প্রথমে ১৪ তম গোল করে ধরে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপেকে। মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোলে বিশ্বমঞ্চে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রেকর্ড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিশ্বকাপে এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন মেসি। তাঁর আগে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং মিরোস্লাভ ক্লোজে। কিন্তু বেশিক্ষণ তাঁদের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকেনি। আরও দুটো গোল করে ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজেকে। ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যে অফসাইডের জন্য জোড়া গোল বাতিল। আর্জেন্টিনার পর গোল বাতিল আলজেরিয়ারও। ম্যাচের ৮ মিনিটে মাজার পাস থেকে বল তেকাঠিতে রাখেন চাইবি। কিন্তু অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। আলজেরিয়ার গোল ক্ষণিকের আতঙ্ক সৃষ্টি করে সাদা নীল শিবিরে। ফিরে আসে চার বছর আগে কাতারের সেই স্মৃতি। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এদিন অবশ্য সেই আশঙ্কা তৈরি হয়নি। তবে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা ম্লান দেখায় আলবিসিলেস্তেদের আক্রমণ ভাগকে। গোল লক্ষ্য করে পরের শটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রায় বিরতি পর্যন্ত। 

এদিন ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মার্টিনেজের শট বাঁচান জিদান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মার্টিনেজ এবং আলমাডাকে তুলে আলভারেজ এবং গঞ্জালেজকে নামান স্কালোনি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ২-০। আবার মেসি। ম্যাক অ্যালিয়েস্টারের নিচু শট তালুবন্দি করতে পারেননি জিদান। বল তাঁর হাত থেকে ছিটকে যায়। বক্সের মধ্যেই অপেক্ষা করছিলেন সুযোগসন্ধানী মেসি। ডান পায়ের আলতো টোকায় বল জালে রাখেন মেসি। টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল করার নজির মেসির। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। কিন্তু তাঁর শটে দারুণ সেভ জিদানের। যদিও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে তৃতীয় গোল। গঞ্জালেজের সঙ্গে পাস খেলে বক্সের মধ্যে জায়গা নিয়ে নেন। ফের বল পেয়ে গড়ানো শটে বাঁ দিকের কর্নারে নিখুঁত ফিনিশ। বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১১তম। মোট ৬১ হ্যাটট্রিক। আর মাত্র ১৯ দিনে ৪০ বছরে পা দেবেন মেসি। এই বয়সেও অপ্রতিরোধ্য। যেভাবে শুরু করেছেন, এই বিশ্বকাপে আরও অনেক রেকর্ড অপেক্ষা করছে।